
কলকাতা : ডোয়েন লেভারককে মনে আছে ? ২০০৭ বিশ্বকাপে সচিনের ক্যাচ নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন বারমুডার এই স্থূলকায় ক্রিকেটার। প্রথম স্লিপে একহাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছিলেন লেভারক। বা ২০১১ বিশ্বকাপের আয়ারল্যান্ড ? ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়েছিলেন কেভিন ও’ব্রায়েনরা। ২০০৩ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল কেনিয়া। দলের কোচ ছিলেন সন্দীপ পাতিল। এভাবেই বিশ্বমঞ্চে বারবার চমক দেখিয়েছে ক্রিকেট দুনিয়ার তথাকথিত ‘ছোটভাই’রা। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রথম ম্যাচ থেকেই বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলি।
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে প্রায় হারিয়েই দিচ্ছিল নেদারল্যান্ডস। নেপাল আবার ওয়াংখেড়েতে মাত্র ৪ রানে হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। ইতালি, ১০ উইকেটে জিতেছে নেপালের বিরুদ্ধে। জিম্বাবোয়ে, এই নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার হারাল অস্ট্রেলিয়ার মত জায়ান্ট দলকে। আজ ওমানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ২৩৫ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড। এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর ২৩৫। ছোট দলগুলির টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির চোখে চোখ রেখে লড়াই করা উজ্জীবিত করছে সেই দেশের তরুণ প্রজন্মকে। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বা ইতালির সাহসী ব্যাটিং প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশগুলিতে ক্রিকেটের কাঠামোর উন্নতি, ঘরোয়া খেলোয়াড়দের ‘স্কাউটিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে তুলে আনা, পরিকাঠামো উন্নয়নের বিনিয়োগ, এই সব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই সাফল্যের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলির এই লড়াই ক্রিকেটের মঞ্চে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর ফলে যেমন দর্শক সংখ্যা বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে ক্রিকেটের প্রসার। আইসিসি চেয়েছিল, ক্রিকেটের যেন বিশ্বায়ন হয়। অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির এই পারফরম্যান্স যেন আইসিসিকে স্বপ্নপূরণের দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছে। ছোটভাইয়েরা গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতে যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখে, তাহলে সুপার এইট বা সেমিফাইনালে দেখা যেতে পারে এক নতুন সমীকরণ। এবারের বিশ্বকাপ প্রমাণ করল, কোনও দলই ছোট নয়।