
কলকাতা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বড় দুটি টুর্নামেন্ট – ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও টি২০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বদল আনছে। পাশাপাশি, ২০২৮ সালের পুরুষদের টি২০ বিশ্বকাপের আগে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও চালু করতে চলেছে আইসিসি। স্কটল্যান্ডের এডিনবরাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইসিসির শীর্ষ কর্তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন নিয়মে অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। আইসিসির মতে, এই পরিবর্তনের ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়বে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠবে এবং দর্শকরাও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এমনকি অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির তিনজন প্রতিনিধিকে নিয়ে গঠিত আইসিসি বোর্ড ২০২৮ সালের পুরুষদের টি২০ বাছাইপর্বের নতুন পদ্ধতিতেও অনুমোদন দিয়েছে।
ওয়ান ডে বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট:
আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আগের মতোই ১৪টি দল খেলবে। তবে এবার নক আউট পর্বের আগে তিন ধাপে খেলা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাছাইপর্বে থাকা সবচেয়ে নিচের তিনটি দল (১২,১৩,১৪ নম্বর দল) প্রথমে নিজেদের মধ্যে রাউন্ড রবিন ‘সুপার সিরিজ’ খেলবে। অর্থাৎ, প্রত্যেক দল একে অন্যের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এই সিরিজের বিজয়ী প্রথম ১১টি দলের সঙ্গে মূল প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ধাপে যোগ দেবে।
দ্বিতীয় ধাপে মোট ১২টি দল (১১টি+সুপার সিরিজের বিজয়ী) থাকবে। এদের ৬টি করে দুটি গ্ৰুপে ভাগ করা হবে ও প্রতিটি গ্ৰুপে সব দল একে অন্যের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলবে। সেই দুই গ্ৰুপ থেকে প্রথম ৩টি করে মোট ৬টি দল ও দুই গ্ৰুপ মিলিয়ে পরের সেরা একটি দল উঠবে ‘সুপার ৭’ পর্বে।
সুপার ৭-এ সাতটি দল একে ওপরের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এই পর্ব থেকে প্রথম ৪টি দল যাবে সেমিফাইনালে। সেখানে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ১ নম্বর ও ৪ নম্বর দল। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ২ নম্বর ও ৩ নম্বর দল। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা খেলবে ফাইনালে। আইসিসির দাবি, এই নতুন ফরম্যাটে খেলা হলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়বে ও ছোট দেশগুলিও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবে।
টি২০ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট:
আগেই গ্ৰুপ পর্বে ৫টি করে ৪টি গ্ৰুপ থাকত। এখন ৪টি করে ৫টি গ্ৰুপ করা হবে। প্রতিটি গ্ৰুপ থেকে শীর্ষে থাকা দুই দল পরের পর্বে উঠবে। এই পর্বের নাম বদলে করা হচ্ছে ‘সুপার ১০’। এখানে থাকবে মোট ১০টি দল। এগুলিকে ৫টি করে দুটি গ্ৰুপে ভাগ করা হবে। প্রতি গ্ৰুপের শীর্ষ দল যাবে সরাসরি সেমিফাইনালে। অর্থাৎ মোট ২টি দল সরাসরি গেল শেষ চারে।
অন্যদিকে, প্রতি গ্ৰুপের দ্বিতীয় স্থানের দল খেলবে অন্য গ্রূপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচগুলি হবে এলিমিনেটর। এখানে জয়ী ২টি দল যাবে শেষ চারে। আইসিসির মতে,এই নতুন ফরম্যাটে খেলবে ১০টি দল। এর ফলে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির সামনে সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন ও জমজমাট হবে।
২০২৮ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফিকেশন পদ্ধতিরও বদল ঘটবে। ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে খেলার সুবাদে স্কটল্যান্ড সরাসরি ইউরোপ রিজিওনাল-এর ফাইনাল খেলবে। এর পাশাপাশি, এমন কিছু দল যারা ২০২৬ এ টি২০ বিশ্বকাপ খেলেছে কিন্তু ২০২৮-এ যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ, তারা সরাসরি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার খেলতে পারবে। রিজিওনাল অনুযায়ী, আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে সুযোগ পাবে ২টি দল, আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়া থেকে সুযোগ পাবে ১টি দল। এই নতুন নিয়মের অর্থ হল বিভিন্ন অঞ্চলের কম জনপ্রিয় দলগুলিকে বিশ্বকাপে ওঠার আরও সুযোগ করে দেওয়া।