
কলকাতা : বলটা বাউন্ডারি ছুঁতেই উচ্ছাসে ফেটে পড়লেন পাঞ্জাব সমর্থকরা। একসময় মনে হয়েছিল ম্যাচ যেন হাতছাড়া হয়ে যাবে। ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে এই অবস্থা ? ৮৩/২ থেকে ১১৮/৬। মাঠে তখন যেন আগুন জ্বালাচ্ছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। নিরাশ মুখে বসে পাঞ্জাবের সমর্থকরা। কনোলি নাহয় রয়েছেন, কিন্তু একদিক থেকে ক্রমাগত উইকেট পড়া শুরু হলে কনোলি একাই বা কী করবেন ? কিন্তু আজ যেন ড্রেসিংরুম থেকেই মুড সেট করে এসেছিলেন এই অজি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাথু শর্টের বদলে অস্ট্রেলিয়ার দলে জায়গা হয়েছিল তাঁর। আজ আইপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই অসাধারণ ব্যাটিং করে পাঞ্জাবকে জয়ের সরণিতে নিয়ে এলেন কনোলি।
আজ টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং-য়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তাঁর সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, শুরু থেকেই প্রমান করতে মরিয়া ছিলেন পাঞ্জাবের বোলাররা। চতুর্থ ওভারেই আউট হয়ে যান সাই সুদর্শন (১৩)। অধিনায়ক শুবমান গিল করলেন ২৭ বলে ৩৯। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফর্ম ছিল না ইংল্যান্ডের ব্যাটার জোস বাটলারের। আজ একটু হলেও রানের মধ্যে ফিরলেন বাটলার। তাঁর স্কোর ৩৩ বলে ৩৮। ১৬ ওভারের মাথায় বাটলার আউট হওয়ার পরেই যেন গুজরাট ইনিংসের মেরুদন্ড ভেঙে দিল পাঞ্জাব। ক্রমাগত করে যাওয়া স্লোয়ার খেলতে ব্যর্থ হন গুজরাটের ব্যাটাররা। ব্যর্থ ওয়াশিংটন সুন্দর (১৮)। চলেননি শাহরুখ খানও (৪)। ২০ ওভারের শেষে মাত্র ১৬৩ রানই বোর্ডে তুলতে সক্ষম হয় গুজরাট।
দুর্দান্ত বোলিং করলেন বৈশাখ বিজয়কুমার। ৪ ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেলেন বৈশাখ। ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট পেলেন চাহল। এর আগেই শোনা গিয়েছিল, আইপিএলের জন্য মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আজ তাঁর বোলিং দেখে মনে হল, যেন বহুদিন ধরেই এই জাতীয় বোলিং করে চলেছেন তিনি। পাঞ্জাবের চিন্তা বাড়াতে পারে অর্শদীপ সিংয়ের বোলিং। ৪ ওভার বল করে ৪২ রান দিলেও ক্রমাগত ওয়াইড ও নো বল করে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ভুগতে পারে পাঞ্জাব।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই প্রিয়াংশ আর্য আউট হলেও এক মুহুর্তের জন্যেও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাত থেকে বেরোতে দেননি কুপার কনোলি ও প্রভসিমরন সিং। ২৪ বলে ৩৭ রান করে আউট হলেন প্রভসিমরন। অধিনায়ক শ্রেয়স আজ অল্প রানের মধ্যেই আউট হয়ে যান। তাঁর ব্যক্তিগত স্কোর ১১ বলে ১৮। আজ ব্যর্থ হলেন নেহাল ওয়াধেরাও। তিনি করলেন মাত্র ৩। গুজরাটকে ম্যাচে ফেরালেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। নিজের প্রথম দুই ওভারের প্রথম দুই বলের মধ্যেই তিনি আউট করলেন শ্রেয়স ও শশাঙ্ক সিংকে। দুই বলের মধ্যেই আউট হয়ে ফিরে যান মার্কাস স্টোইনিস। ১১০/৩ থেকে মুহুর্তের মধ্যে ১১৮/৬ হয়ে যায় পাঞ্জাব। এরপর থেকেই যেন ম্যাচের হাল ধরেন কুপার কনোলি। তাঁর ব্যাটিং দেখে কে বলবে, আজ অভিষেক ঘটল তাঁর ? ৪৪ বলে ৭২ রান করলেন তিনি। যে সময় মনে হচ্ছিল, পাঞ্জাবের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে গিয়েছে, সেই মুহূর্তেই পাঞ্জাবকে জয়ের সরণিতে আনলেন কনোলি।
গুজরাটের হয়ে একা লড়লেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। ৪ ওভার বল করে ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। কাগিসো রাবাডা, অশোক কুমার, রশিদ খান ও ওয়াশিংটন সুন্দর পেয়েছেন ১টি করে উইকেট। জেভিয়ার বার্টলেট অপরাজিত রইলেন ৫ বলে ১১ রানে। কিন্তু যাবতীয় আলো শুষে নিজের দিকে নিয়ে গেলেন কুপার কনোলি। করলেন ৪৪ বলে ৭২ রান। তাঁর ব্যাটে চড়েই প্রথম ম্যাচেই গুজরাটের দৈত্যদের পরাস্ত করল পাঞ্জাব। ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে ৫ বল আগেই নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব।
এই নিয়ে আইপিএলের ৪ ম্যাচেই রান তাড়া করা দল ম্যাচ জিতল। প্রথম ম্যাচে আরসিবি, দ্বিতীয় ম্যাচে মুম্বই, গতকাল রাজস্থান এবং আজ পাঞ্জাব। এই আইপিএলে এটাই প্রথম ম্যাচ প্রত্যেক দলের। ফলে, এখনও নিজেদের ভুলগুলো শুধরানোর প্রচুর সুযোগ পাবে দলগুলো। কিন্তু যে প্রবাদ বাক্য চিরন্তন সত্যের মতো প্রতি আইপিএল সিজনেই প্রষ্ফুটিত হয়ে ওঠে, যে আইপিএল মানেই নতুন তারকার জন্ম, তা আজও প্রমাণ করলেন কুপার কনোলি। লড়াই যে অজিদের রক্তেই!