
কলকাতা : ধারে ভারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম অপেক্ষায় ছিল আরও একটি চমকের। চমক দিল, তা অবশ্য বলা যাবে না। দু’বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড কোনও রকমে জিতল নেপালের বিরুদ্ধে। প্রবল চাপ সামলে মাত্র চার রানে জিতলেন বাটলাররা। শেষ ওভারে নেপালকে জিততে গেলে করতে হত ১০ রান। স্যাম কারান দিলেন মাত্র ৫ রান। হেরে গেলেও নেপাল মন জয় করে নিল মুম্বইয়ের দর্শকদের। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু থেকেই বেশ চমকপ্রদ। প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডস প্রায় হারিয়েই দিচ্ছিল পাকিস্তানকে। ভারতের বিরুদ্ধে ভালো শুরু করেছিল আমেরিকা। আবার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেপার্ড। নেপালের এই লড়াই মন জয় করে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের।
প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান তোলে। চমৎকার হাফসেঞ্চুরি যুব প্রতিভা জেকব বেথেলের। ভালো রান পেয়েছেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও (৫৩)। তবে রান মেলেনি ওপেনার ফিল সল্টের। মাত্র ১ রান করেছেন ইংল্যান্ডের বিস্ফোরক ওপেনার। শেষ দিকে উইল জ্যাকস ১৮ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন নেপালের দীপেন্দ্র সিংহ আইরি ও নন্দন যাদব। একটি উইকেট সুপারস্টার ক্রিকেটার সন্দীপ লামিছানের।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক রোহিত পাউদেল করেন ৩৯ রান। দীপেন্দ্রর ব্যাট থেকেও আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪৪ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ডের মুখ থেকে ম্যাচ প্রায় ছিনিয়ে নিচ্ছিলেন লোকেশ বাম। ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন লোকেশ। ১৮তম ওভারে বল করতে এসে ২২ রান দেন ইংল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য পেসার জোফ্রা আর্চার। এটিই তাঁর টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে সবচেয়ে খারাপ ওভার। শেষ বলে নেপালকে জিততে গেলে করতে হত ৬ রান। মাত্র ১ রান নিতে সক্ষম হন লোকেশ। স্পিনার লিয়াম ডসন নিয়েছেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন আর্চার, লিউক উড, উইল জ্যাক্স ও স্যাম কারান।
ক্রিকেট প্রাচুর্যের খেলা। কিন্তু আর্থিক দিক থেকে যথেষ্ট পিছিয়ে নেপালি ক্রিকেটাররা। নেপালের প্রথম সারির একজন ক্রিকেটারের মাসিক রোজগার ৬৫ হাজার টাকার মতো। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের বার্ষিক আয় প্রায় কয়েক কোটি টাকার মতো। তাঁরা খেলেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লিগেও। আইপিএলেও পরিচিত মুখ ইংলিশ ক্রিকেটাররা। উল্টো দিকে নেপালের একমাত্র সন্দীপ লামিছানে ছাড়া আর কেউই সুযোগ পাননি আইপিএলে। ওয়াংখেড়েতে ম্যাচ দেখার জন্য হাজির ছিলেন নেপালি সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে গোটা মাঠ ঘোরেন নেপাল দল। যা মন জয় করেছে বাণিজ্যনগরীর।