India vs Namibia : বঞ্চনার জবাব দিচ্ছেন ঈশান, বিশ্বকাপে হার্দিক শো!

ভারতীয় দলের সঙ্গে যেন কয়েক লক্ষ যোজন দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল ঈশানের। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে মানসিক অসুস্থতার কারণে ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন ঈশান। সেই সময়েই তাঁকে দেখা যায় দুবাইতে। ২০২৪ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর রঞ্জি ট্রফি খেলতে চান নি ঈশান। এই ঘটনার পরেই ২০২৪ সালে তাঁর সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিভঙ্গ করেছিল বিসিসিআই।

India vs Namibia : বঞ্চনার জবাব দিচ্ছেন ঈশান, বিশ্বকাপে হার্দিক শো!
Image Credit source: Nikhil Patil/Getty Images, Kabir Jhangiani/NurPhoto via Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Feb 12, 2026 | 10:35 PM

কলকাতা : ম্যাচ শুরুর আগে অনেক কিছুর পূর্বাভাস ছিল। ভারত এই ম্যাচ পাকিস্তান ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে মাঠে নামবে, অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রানের ঝড় উঠবে, ভারতীয় ব্যাটারদের কাছে রীতিমতো পাড়ার বোলারদের পর্যায়ে নেমে আসবে নামিবিয়া… আশা অনেক থাকে। সব পূর্ণ হয় না। ভারত বনাম নামিবিয়া ম্যাচে রান তো উঠল, কিন্তু কোনোমতে অল আউট হওয়া থেকে বাঁচল ভারত।

দিল্লিতে এই ফেব্রুয়ারি মাসে শীতের হালকা আমেজ থাকে। এই হালকা শীতেই অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন দুই ভারতীয় ব্যাটার। ঈশান কিষান এবং হার্দিক পান্ডিয়া। আজ ম্যাচে খেলেন নি অভিষেক শর্মা। তাঁর বদলে দলে ঢুকলেন সঞ্জু স্যামসন। দলে ফিরলেও রান পেলেন না সঞ্জু। মাত্র ৮ বলে ২২ রান করেই আউট হয়ে যান সঞ্জু। সঞ্জু আউট হলেও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাত থেকে ছাড়েন নি আর এক ওপেনার ঈশান কিষান। প্রথম ওভার থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। আমেরিকার বিরুদ্ধে করেছিলেন ১৬ বলে মাত্র ২০। আজ খেললেন মাত্র ২৪ বলে ৬১ রানের ইনিংস। ২০ বলে পূর্ণ করেছেন নিজেদের হাফ সেঞ্চুরি। ষষ্ঠ ওভারে স্মিটকে একই ওভারে ৪টি গগনচুম্বী ছয় ও একটি বাউন্ডারি মেরে ৫০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন ঈশান।

অথচ বেশ কয়েক মাস আগেও গল্পটা ছিল অন্যরকম। ভারতীয় দলের সঙ্গে যেন কয়েক লক্ষ যোজন দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল ঈশানের। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে মানসিক অসুস্থতার কারণে ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন ঈশান। সেই সময়েই তাঁকে দেখা যায় দুবাইতে। ২০২৪ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর রঞ্জি ট্রফি খেলতে চান নি ঈশান। এই ঘটনার পরেই ২০২৪ সালে তাঁর সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিভঙ্গ করেছিল বিসিসিআই। এই চুক্তি হারানোর পরেই যেন ধীরে ধীরে ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়ে যায়। ফর্ম হারিয়েছিলেন আইপিএলেও। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ১৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৩২০ রান। এমন সময় আসরে নামেন তৎকালীন ভারতীয় দলের হেডস্যার রাহুল দ্রাবিড়। ঈশানকে শৃঙ্খলা ফেরাতে অনুরোধ করেছিলেন দ্রাবিড়। পাশাপাশি তাঁকে ডোমেস্টিক ক্রিকেট খেলতেও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এর ফলে ঈশান নিজেকে দলে ফেরানোর একটি রাস্তা খুঁজে পাবেন – এমনই ধারণা ছিল দ্রাবিড়ের। এরপরেই ডোমেস্টিকে ঝাড়খণ্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা শুরু করেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন ‘বুচি বাবু টুর্নামেন্ট’ এবং রঞ্জি ট্রফি। ২০২৫ সালের শেষে কপাল খোলে তাঁর। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডের অধিনায়ক হিসেবে রাজ্যকে দিয়েছেন প্রথম ট্রফি। ফাইনালে নিজে খেলেছেন ৪৯ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। এরপরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে ডাক পান ঈশান। পরপর দুই ম্যাচে মারকুটে শুরু করে তিনি দেখিয়ে দিলেন, এখনও শেষ হয়নি ঈশানের কেরিয়ার।

খানিকটা একরকম কাহিনী হার্দিকেরও। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মাকে অপসারিত করে হার্দিককে আইপিএলের জন্য নিজেদের অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেছিল মুম্বই। প্রায় প্রতিটি হোম ম্যাচেই দর্শকদের কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন হার্দিক। মাঠে নামতেই রীতিমতো ট্রোলিংয়ের শিকার হতেন তিনি। তবুও, নিজের প্রতি আস্থা হারান নি হার্দিক। সমালোচিত হয়েছিলেন নিজের ফর্মের জন্যও। গোটা টুর্নামেন্টে আড়াইশোর ঘরও ছুঁতে পারে নি তাঁর রান। কয়েক মাস পর বার্বাডোজে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ ওভারে দলকে জেতান তিনি। ফাইনালে টিভি সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে দেওয়া ইন্টারভিউতে তিনি বলেছিলেন সেই কঠিন সময় পার করতে কতটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন হার্দিক। ২০২৫ সালে আইপিএলে কামব্যাক ঘটান ভারতীয় ক্রিকেটের ‘কুংফু পান্ডিয়া।’ দলকে নক আউট পর্যায়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন হার্দিক। লখনৌয়ের বিরুদ্ধে নিজের কেরিয়ারের সেরা ৫ উইকেট নেন এক ম্যাচেই। এরপরেই তাঁকে দলে ফেরানোর দাবি উঠতে থাকে। দাবি যে ভুল ছিল না, আজ ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে তা প্রমান করে দিলেন হার্দিক। ঈশান ও হার্দিকের সৌজন্যেই দুশোর গণ্ডি পেরোল ভারত।

ভারতীয় দলের এই মুহূর্তে ব্যাটিংয়ের অবস্থা বেশ শোচনীয়। টপ অর্ডার প্রায়দিনই ব্যর্থ হচ্ছে। অভিষেক শর্মা শারীরিক অসুস্থতার জন্য আজ নেই। দলে ফিরলেও রান পাচ্ছেন না সঞ্জু। এসবের মধ্যেই দুই ‘বিতর্কিত হিরো’রা ক্রমাগত লাইফ সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন ভারতকে।