
ইন্দোর: প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ভারতের ব্যাটিং ভরাডুবি। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৯ রানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের ইনিংস। প্রথম দিনের শেষে অ্যাডভান্টেজ ছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য় ছিল ভারতীয় শিবিরের। প্রথম ঘণ্টায় উইকেটের জন্য় হা-পিত্য়েস করতে হয়েছিল ভারতীয় শিবিরকে। ম্য়াচের রং বদলানোর জন্য় দায়িত্ব নিতে হত বোলিং বিভাগকে। দিনের প্রথম ঘণ্টা অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু এরপরই বল হাতে ম্য়াজিক রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং উমেশ যাদবের। মাত্র ২৪ বলের ব্য়বধানে অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্য়াচে ফিরিয়েছিলেন অশ্বিন, উমেশ। ৮৮ রানের মূল্যবান লিড নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনের শেষেও ব্য়াকফুটে ভারত। সৌজন্যে ব্যাটিং। একমাত্র প্রাপ্তি চেতেশ্বর পূজারা-শ্রেয়স আইয়ারের জুটি। পূজারা ৫৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। বিস্তারিত TV9Bangla-য়।
নাগপুর এবং দিল্লি টেস্টে জিতলেও টপ অর্ডারের ব্য়র্থতা ভুগিয়েছে ভারতকে। যা কিছু রান, মিডল এবং লোয়ার অর্ডারেই এসেছে। এই ম্যাচে লোকেশ রাহুলকে বাদ দিয়ে খেলানো হয় ফর্মে থাকা তরুণ ওপেনার শুভমন গিলকে। কোনও পার্থক্য গড়ে দিতে পারলেন না। দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে ফিরলেন শুভমন। লাঞ্চের পরই নাথান লিয়ঁর বোলিংয়ে স্টেপ আউট করেন। বলের লাইন মিস করে বোল্ড। অধিনায়ক রোহিত শর্মার ইনিংসও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র ১২ রানে ফেরেন তিনি। ভারতীয় ইনিংসকে কিছুটা ভরসা দিলেন চেতেশ্বর পূজারা। শুরুতে অবশ্য মন্থর ব্য়াটিং করছিলেন পূজারা। কাউন্টার অ্য়াটাকে মন দেন শ্রেয়স আইয়ার।
ঈশান কিষাণকে দিয়ে পূজারার জন্য ‘বিশেষ’ বার্তা পাঠান অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এরপরই অন্যরূপে দেখা যায় পূজারাকে। শেষ অবধি ৫৯ রানের অনবদ্য ইনিংসে তাঁর প্রতিরোধ ভাঙে। নাথান লিয়ঁর বোলিংয়ে শর্ট ফাইন লেগে এক হাতে অনবদ্য ক্যাচ নেন স্টিভ স্মিথ। ৫৯ রানের ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির পাশাপাশি একটি ওভার বাউন্ডারিও মারেন। রোহিতের বার্তার ফলেই ওভার বাউন্ডারি বলে মনে করা হচ্ছে।
পূজারা আউট হতেই চাপ বাড়তে থাকে ভারতের। শেষ দিকে অক্ষর প্য়াটেল মরিয়া চেষ্টা করেন কিছুটা রান যোগ করার। কিন্তু হেডিংলি টেস্টে বেন স্টোকসের সঙ্গী জ্যাক লিচের মতো হতে পারলেন না মহম্মদ সিরাজ। তিনি ক্রিজে থাকতে পারলে হয়তো অক্ষর আরও কিছুটা রান যোগ করতে পারতেন। সিরাজ স্টেপ আউট করে বোল্ড হন। ভারত অলআউট ১৬৩ রানে। সেখানে দিনের খেলারও সমাপ্তি ঘোষণা হয়। ইন্দোর টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়ার চাই মাত্র ৭৬ রান। এই রানের পুঁজি নিয়ে জেতা সম্ভব? পিচের যা পরিস্থিতি তাতে ক্ষীণ আশা হলেও করা যায়। যদিও খুবই কঠিন কাজ। ভারতীয় শিবির অবশ্য এই রান নিয়েও জেতার স্বপ্ন দেখছে। কেন না, এ দিন মাত্র ২৪ বলের ব্যবধানেই বাকি ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।