
কলকাতা : রবি রাতে কলম্বোয় ঘটল সূর্যোদয়। ৬১ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ভারতের ১৭৫ রানের জবাবে ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেলেন বাবররা। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন হার্দিক, বুমরা, অক্ষর, বরুণ। এই হারের ফলে গ্ৰুপের তৃতীয় স্থানে নেমে গেলেন বাবররা। একমাত্র রান পেয়েছেন উইকেট রক্ষক উসমান খান। ৩৪ বলে ৪৪ করেছেন তিনি। শেষে চেষ্টা করেছিলেন শাহীন আফ্রিদিও। কিন্তু ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে একপ্রকার আত্মসমর্পণ করেছে পাক দল।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরই উজ্জ্বল ভারতের ইতিহাস। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান কোনোদিনও হারাতে পারেনি ভারতকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই ফলাফলই ৮-১। এই ম্যাচের আগে প্রচুর বিতর্ক হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। প্রথমে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতেই চায়নি পাকিস্তান। তাদের মত ছিল, বিশ্বকাপ খেললেও ভারত ম্যাচ খেলবে না পাক দল। শেষ পর্যন্ত যদিও বা তারা খেলল, কিন্তু সেখানেও হার স্বীকার করতে হল সলমন আলি আগাদের। ব্যাটিং করতে এসে প্রথম ওভার থেকেই উইকেট হারাতে শুরু করে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান শাহিবজাদা ফারহান। দ্বিতীয় ওভারে বুমরা তুলে নেন সাইম আয়ুব ও সলমন আগার উইকেট। অক্ষর পটেলের বল বুঝতে না পেরে ক্লিন বোল্ড হয়ে ডাগ আউটে ফেরেন বাবর আজম (৫)। অক্ষর পটেলের বলেই স্ট্যাম্পড হয়ে ক্রিজে ফেরেন উসমান (৪৪)। এক সময় ৭৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। শাহিন আফ্রিদি না থাকলে হয়ত ১০০ রানের গণ্ডি টপকানোর আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত পাক দলের ইনিংস। পরপর দুই বলে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদকে আউট করে হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। অথচ, আগের দিনই শাহিবজাদা ফারহান বলেছিলেন, বরুণকে খেলার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে দল। ম্যাচ শেষে ম্যাচের সেরা ঈশান কিষান বললেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রান করা সব সময়ই একটা আলাদা অনুভূতি। তাদের বিরুদ্ধে জয় সর্বদা আলাদা আত্মবিশ্বাস জোগায়। ভারত অধিনায়ক সূর্য বললেন,”এই জয়টা ভারতীয়দের জন্য। ১৭৫ রান করার পর আমরা বুঝেছিলাম অন্তত ১৫-২০ রান বেশি করেছি। ১৫৫ রান করলে ম্যাচটা হাড্ডাহাড্ডি হত।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া উচিত হয়নি কারণ তাদের ব্যাটিংয়ে গভীরতা নেই। যদি ভারত ১৪০-১৫০ রান করত, তাহলে ম্যাচে লড়াই করার জায়গা থাকত পাকিস্তানের কিন্তু ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেখেই হয়ত ঘাবড়ে গিয়েছিলেন পাক ব্যাটাররা। এই ম্যাচে ৩৭ হাজার দর্শকের সামনে প্রথমে বোলিং, পরে ব্যাটিং – দুই বিভাগেই নাজেহাল সলমনরা। পাকিস্তানের হারের ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে, এই শোচনীয় হারের থেকে ম্যাচ না খেললে ভাল হত।
পাকিস্তানকে কে বোঝাবে ?