
কলকাতা: নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারতের হার একজনের দোষ নয়। তাই এই ফলাফলের জন্য় গৌতম গম্ভীরকে একা দায়ী করা যায় না। এই সিরিজে ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ফিল্ডিং আর মাঝের ওভারগুলোতে খেলতে না পারা। ব্যাটাররা ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফিল্ডাররা একাধিক ক্য়াচ মিস করেছেন। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের একের বদলে দুই রান নিতে দিয়েছেন। শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এত ভু করলে তার খেসারত তো দিতেই হয়। ভারতকেও তাই দিতে হয়েছে। তবু গম্ভীরকে নিয়ে বিতর্ক যাচ্ছে না। ২০২৪ সালে গম্ভীরের কোচিংয়েই নিউজিল্যান্ড প্রথমবার হোম সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল। সেবারও নিউজিল্যান্ডের থেকে ভারতীয় টিম শক্তিশালী ছিল।
সপ্তাহ দুয়েক পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার ঠিক আগে এই হার গম্ভীরের উপর চাপ সৃষ্টি করল। এর আগে তাঁর কোচিংয়েই ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হেরেছে। যা ২৫ বছরে প্রথমবার ঘটেছিল। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ মরসুমে বর্ডার গাভাসকর ট্রফিতেও ভারত ৩-১ ব্যবধানে হারে। একমাত্র ইংল্যান্ডে মাটিতে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-২ ড্র করে ভারত, শুভমন গিলের নেতৃত্বে। ওডিআই ফর্ম্যাটে গম্ভীরের রেকর্ড তুলনামূলক ভালো। ভারতের ঝুলিতে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ হারাতে পেরেছিল ভারত। টি-টোয়েন্টি সিরিজে গম্ভীরের কোচিং ফলাফল দারুণ। এই নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি বলছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পরও রোহিত শর্মাকে ওডিআই অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর পেছনে গম্ভীরের হাত থাকতে পারে।’
গম্ভীর যুক্তিতে বলেন,’আমি এমন সময়ে দায়িত্ব নিই, যখন দলের একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটাররা ফর্মে ছিলেন না।’ গম্ভীরের কিছু সাহসী সিদ্ধান্তও সফল হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার বদলে সূর্যকুমার যাদবকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করা। হর্ষিত রানাকে সুযোগ দেওয়া, এমন অনেক কিছু। ক্রিকেটার হিসেবে গম্ভীর ছিলেন সাহসী। কোচ হিসেবেও তিনি সেই একই মানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছেন। কিন্তু ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গম্ভীর যদি চ্যাম্পিয়ন করতে না পারেন চাপ বাড়বে ভারতের কোচের উপর।