
কলকাতা: যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই যেন শুরু করল আরসিবি। ২০১ তাড়া করতে নেমে ২৬ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে আইপিএলের সবথেকে ভয়ঙ্কর দল সানরাইজার্সকে উড়িয়ে দিল বেঙ্গালুরু। ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত রইলেন বিরাট কোহলি। তাঁকে দেখে মনেই হয়নি, টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। বরং যেভাবে হর্ষল, পেন, হর্ষ দুবেকে গ্যালারিতে পাঠাচ্ছিলেন তিনি, দেখে মনে হতেই পারে, কোন যুক্তিতে কোহলি অবসর নিলেন দুই বছর আগেই ? তিনি এলেন, তিনি দেখলেন এবং তিনি ম্যাচ পকেটে পুরে নিয়ে গেলেন। প্রথম ম্যাচেই একপেশে জয় পেল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবির আইপিএল জয়ী অধিনায়ক রজত পাতিদার। ট্র্যাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা বিগত দুই সিজন যথেষ্ট ফর্মে থাকলেও আজ দুজনেই ব্যর্থ। বিশ্বকাপ থেকেই চূড়ান্ত ব্যর্থ অভিষেক (৭)। আজকেও জেকব ডাফির বলে পুল করতে গিয়ে জিতেশ শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন তিনি। ভালো শুরু করলেও সেই হাসির বলেই আউট হন হেড (১১)। ২৯/৩ থেকে ম্যাচের হাল ধরেন ঈশান কিষাণ ও হেনরিখ ক্লাসেন। চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ করলেন দুজনে। ২২ বলে ৩১ করলেন ক্লাসেন। বাউন্ডারি লাইনে তাঁর দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন ফিল সল্ট।
ঈশান কিষানকে দেখে মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের ফর্মই যেন ধরে রেখেছেন তিনি। আজ করলেন ৩৮ বলে ৮০ । অভিনন্দন সিংয়ের বল পয়েন্টের দিকে মারলেও বাউন্ডারি লাইনে একহাতে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন সল্ট। তাঁর এই ক্যাচটি যদি আইপিএলের সেরা ক্যাচ হিসেবে গণ্য হয়, অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এরপর থেকেই নিয়মিত উইকেট হারাতে শুরু করে হায়দরাবাদ। সাতে নেমে অনিকেত ভার্মা ১৮ বলে ৪৩ রান না করলে ২০০ রান পেরোতে পারত না সানরাইজার্স। ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ২০১। ডেবিউ ম্যাচেই ৩ উইকেট পেলেন কিউয়ি বোলার জেকব ডাফি। তাঁর বোলিং ফিগার ৪-০-২২-৩। রোমারিও শেপার্ডের ঝুলিতেও ৩ উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে শুরু করে আরসিবি। প্রথম ওভারেই দুটি বাউন্ডারি মারলেও দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান ফিল সল্ট(৮)। তিনে নেমে দুর্দান্ত ব্যাট করলেন দেবদত্ত পাদিক্কাল। আইপিএলের আগেই রঞ্জিতেও এসেছে সেঞ্চুরি। সেই ফর্মই বজায় রাখলেন আজ। খেললেন ২৬ বলে ৬১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। অধিনায়ক রজত পাতিদার আইপিএলের আগে ফর্মে ছিলেন না। কিন্তু আজ তাঁর ব্যাট থেকেও বেরোল ১২ বলে ৩১ রানের ইনিংস।
১২তম ওভারে ইংলিশ বোলার ডেভিড পেন পরপর দুই বলে পাতিদার ও জিতেশ শর্মাকে (০) আউট করে একসময় চাপে ফেলে দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুকে। কিন্তু তিনি, বিরাট কোহলি, যেন প্রথম থেকেই ছিলেন সংকল্পবদ্ধ। ৩৮ বলে অপরাজিত রইলেন ৬৯ রানে। বাউন্ডারি লাইনে হেনরিখ ক্লাসেন তাঁর ক্যাচ না ফেললে হয়ত ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকত হায়দরাবাদের কাছে। রান তাড়া করার সময় তাঁকে আটকানো কঠিন, স্বীকার করে নিলেন হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক ঈশান কিষান। ১০ বলে ১৬ রানে অপরাজিত রইলেন টিম ডেভিড।
আইপিএলে এই প্রথমবারের জন্য কোন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হল না। গত বছর আরসিবির ট্রফি সেলিব্রেশনের সময় ১১ জন সমর্থক পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতেই ম্যাচের শুরুতে ১ মিনিটে নিরবতা পালন করা হল। কর্নাটক ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ১১টি আসন উৎসর্গ করা হবে মৃত সমর্থকদের। কিন্তু যেভাবে প্রথম ম্যাচেই একপেশে জয় পেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, টানা দুইবার আইপিএল জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন আরসিবি সমর্থকরা। এই ম্যাচে ছিলেন না যশ হ্যাজলউড। তিনি দলে ফিরলে আরও শক্তিশালী বোলিং ইউনিট হবে আরসিবির। কিন্তু আজকের চিন্নাস্বামী দেখল, পরপর উইকেট পড়লে ভরসার নাম আজও একজনই। বিরাট কোহলি।