T20 World Cup Final : ড্রেসিংরুম-টিম হোটেল বদল, কাপ জিততে তুকতাকে ভরসা সূর্যদের ?

বেশ কিছু হাস্যকর তথ্য শোনা যাচ্ছে। যেমন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবারও কিউয়িদের হারাতে পারেনি ভারত। রবিবারে ভারতে ফাইনাল হলে নাকি ভারত জেতে না। এসব দেখে নিজেরই নিজেকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়, আদৌ কি আমরা সভ্যতার থেকে কয়েক হাজার কদম পিছিয়ে যাচ্ছি নাকি এই ভয় ধরানো কথা বলে ফাইনালের আগে নার্ভ ফেল করানোটাই দস্তুর ?

T20 World Cup Final : ড্রেসিংরুম-টিম হোটেল বদল, কাপ জিততে তুকতাকে ভরসা সূর্যদের ?
Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Mar 07, 2026 | 3:17 PM

কলকাতা : ইংলিশে একটি বিখ্যাত ‘ফ্রেজ্’ আছে, ‘অল রোডস্ লিড টু রোম’। ১১৭৫ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি ধর্মতত্ত্ববিদ অ্যালেন ডে’লিলে প্রথমবার ব্যবহার করেছিলেন এই শব্দবন্ধটি। আগামীকাল এটি বদলে ‘অল রোডস্ লিড টু নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম আহমেদাবাদ’ লিখলে হয়তো ভুল লেখা হবে না। যেভাবে এখন থেকেই টিকিটের জন্য হাহাকার দেখা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে দাম ৫০ হাজার হলেও অতিউৎসাহী ক্রিকেট সমর্থক সেই টিকিট কেনার চেষ্টা করতেই পারেন। ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন একবার ভেঙেছে। এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই আশাতেই মগ্ন ক্রিকেটমহল। আড়াই বছর আগে এই মাঠেই ভারতের অশ্বমেধের ঘোড়াকে ট্র্যাভিস হেড-মার্নাস লাবুশেন শুধু থামানইনি, প্রায় খোঁড়া করে দিয়েছিলেন। ৪৭/৩ থেকেও যেভাবে ফাইনালে কামব্যাক করেছিল অস্ট্রেলিয়া, তা আজও যে ফিরে ফিরে আসে ভারতীয় সমর্থকদের মননে, ইনস্টাগ্রাম খুললেই বোঝা যায়।

সেই আশঙ্কা থেকেই এবার আরও কঠোর অনুশীলন করছে ভারতীয় দল। গতকালই আহমেদাবাদ পৌঁছেছেন হার্দিক-তিলকরা। বুমরা ও অক্ষর গুজরাটের স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় হোটেলে না গিয়ে সরাসরি নিজেদের বাড়ি গিয়েছেন। তবে অনুশীলনে ফাঁক না রাখলেও মাঠের বাইরের বেশ কিছু জিনিস নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ভারতীয় স্কোয়াড। এর আগে আহমেদাবাদে ম্যাচ হলে যে হোটেলে জিজি-ব্রিগেড থাকত, এবার সেই হোটেলে নেই তারা। ভাগ্য বদলের আশায় হোটেল বদল করেছে টিম। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে, এর আগের ম্যাচে আহমেদাবাদ ভারতের ঘরের মাঠ হওয়ার ফলে হোম ড্রেসিংরুমেই থাকতেন সঞ্জুরা। এবার পালা বদলে অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ভারতের। এমনকি শোনা গিয়েছিল, সেমিফাইনালের আগে চন্দ্রগ্রহণের সময় মুম্বইয়ের মাঠে প্র্যাকটিস করেনি ভারতীয় দল।এযাবৎকালে এহেন তুকতাকে ভরসা করতে দেখা যায়নি ভারতকে, তবে এসবের প্রতি বাড়তি মনোযোগ যেন দলের প্রধান ফোকাস নড়িয়ে না দেয়, এই আশাই করবে ভারতীয় ক্রিকেট মহল। এছাড়াও আরও বেশ কিছু হাস্যকর তথ্য শোনা যাচ্ছে। যেমন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবারও কিউয়িদের হারাতে পারেনি ভারত। ২০০৭, ২০১৬, ২০২১ – তিন বারেই জয়ী জিমি নিশামরা। রবিবারে ভারতে ফাইনাল হলে নাকি ভারত জেতে না। এসব দেখে নিজেরই নিজেকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়, আদৌ কি আমরা সভ্যতার থেকে কয়েক হাজার কদম পিছিয়ে যাচ্ছি নাকি এই ভয় ধরানো কথা বলে ফাইনালের আগে নার্ভ ফেল করানোটাই দস্তুর ?

ভারতীয় দলে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু দুই জন। প্রথমজন, যিনি বিশ্বকাপের আগে তারকার তকমা পাওয়ার পর বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ফ্লপ। তাই তিনি,অভিষেক শর্মা জানেন ফাইনালেও তাঁকে বসানোর ‘ক্ষমতা’ নেই ভারতীয় ম্যানেজমেন্টের। তাঁর উপর যে প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে জনগণের, সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ অভিষেক। শেষ ল্যাপে চাইবেন যেন তাঁর ব্যাটে রান খরা কাটে। দ্বিতীয় জন, বরুণ চক্রবর্তী। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে নিয়ে হইচই শুরু হলেও গ্রুপ পর্বে ভাল ফর্মেই ছিলেন বরুণ। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ থেকেই যেন তাল কাটা শুরু হয়েছে। উইকেট পেলেও প্রচুর রান দিচ্ছেন বরুণ। ইংল্যান্ড ম্যাচে তাঁকে নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলেছেন ২২ বছর বয়সী কিশোর জেকব বেথেল। ইতিমধ্যেই চর্চা হচ্ছে, ফাইনালে বরুণের বদলে কুলদীপকে আনার। অভিষেকের বদলে রিঙ্কু সিংকে আনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে, অভিষেক বসবেন না ধরে নেওয়াই যায়।

বারবারই বলা হয় আহমেদাবাদ স্টেডিয়াম ‘অশুভ’। নিন্দুকেরা কারণ হিসেবে দেখান, এই মাঠেই ২০২৩ সালে ভারতের ওডিআই বিশ্বকাপ হার। যদিও যুক্তি দিয়ে বিচার করলে, সেই ফাইনালে ফারাক গড়ে দিয়েছিল ফিল্ডিং। ভারতের চেয়ে কয়েকশো গুণ ভাল ফিল্ডিং করে প্রায় ৩০-৪০ রান বাঁচিয়েছিলেন হেড, মার্শরা। কিন্তু, নিন্দুকদের আর সেই যুক্তি বোঝাবে কে ? তাই অশুভ স্টেডিয়ামেই কাপ অন্বেষণে নামবেন সূর্যরা, যদি অপয়া তকমা ঘোচানো যায়।