
কলকাতা : তাঁকে নিয়ে বিতর্ক ছিলই। তিনি খেলা দেখালেন নিজ ভঙ্গিমাতেই। এর আগে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে চর্চা ছিল ক্রিকেটজগতে। তিনি, উসমান তারিক নানা রকমের ডেলিভারি করে আটকে রাখলেন সূর্য-তিলককে। সন্ধেয় এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল কলম্বোতে। মাঠে এসেছিলেন আইসিসির বিশ্বকাপের অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা। এসেছিলেন রাজীব শুক্ল, জয় শাহও। তাঁদের সামনেই নিজের কেরিয়ারের একপ্রকার পুনরুত্থান ঘটালেন ঈশান কিষান। এশিয়া কাপের ধারা বজায় রেখে আজকেও হাত মেলালেন না দুই দলের অধিনায়ক।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাক ক্যাপ্টেন সলমন আলি আগা। তাঁরা দলে কোনও বদল না আনলেও ভারতীয় দল দুটি পরিবর্তন করেছিল। হাসপাতাল থেকে কয়েকদিন আগেই ছাড়া পেয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। দলে ফিরলেও রান ফিরল না তাঁর ব্যাটে। প্রথম ওভারে ০ রানে আউট হয়েই ডাগআউটে ফেরেন অভিষেক। শেষ ৬ ম্যাচে ৪ শূন্য রানের ইনিংস খেলে এখন প্রশ্নের মুখে অভিষেক। কয়েকদিন আগেই তাঁর শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। অভিষেক ফিরতেই দলকে টেনে তুললেন ঈশান কিষান। কলম্বোয় ঈশান ঝড়ের সামনে তখন রীতিমতো বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল পাক বোলিং ইউনিটকে। ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন ঈশান। এটিই কোনও ভারতীয় ব্যাটারের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। নবম ওভারে সাইম আইয়ুবের বলে আউট হয়ে ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে যখন তিনি ফিরছেন, তখনও ২০০র স্বপ্ন দেখছে ভারত। তিনি আউট হতেই যেন পঞ্চম গিয়ার থেকে প্রথম গিয়ারে নেমে এল ভারতীয় ব্যাটিং। এই বিশ্বকাপে যেন স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন কিষান। প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিং বড় রানের রাস্তায় তুলছে ভারতীয় দলকে। ১৫তম ওভারে পরপর দুই বলে আইয়ুবের বলেই আউট হয়ে যান তিলক ভার্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়া। অধিনায়ক সূর্য আজ করলেন ২৯ বলে ৩২। বিতর্কিত স্পিনার উসমান তারিকের সামনে একদমই সাবলীল ছিলেন না ভারতীয় ব্যাটাররা। সূর্য থেকে শিবম, নড়বড়ে দেখিয়েছে প্রত্যেককেই। রিঙ্কু সিং নট আউট রইলেন ৪ বলে ১১ রানে। শিবম দুবে (২৭) চেষ্টা করলেও ভুল বোঝাবুঝিতে শেষ ওভারে রান আউট হলেন তিনি। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মহাযুদ্ধে এই স্কোরই সর্বোচ্চ।
এই পিচ স্পিনারদের জন্য উপযুক্ত। পাক পেসার শাহীন আফ্রিদি মাত্র ২ ওভার বল করলেন। ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন আইয়ুব। একটি করে উইকেট পেয়েছেন উসমান তারিক, পাক অধিনায়ক সলমন এবং শাহীন। ভারতীয় দলেও আজ পেসারের ভূমিকায় বুমরা এবং হার্দিক। এই ম্যাচ হারলে সুপার এইটের রাস্তা কঠিন হয়ে যাবে পাকিস্তানের জন্য। অন্যদিকে ভারত জিতলে সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলবেন সূর্যরা।