
কলকাতা : বেশিদিন নয়, মাত্র দুই বছর। দুই বছর আগেও ভারতীয় দলের ত্রিসীমানায় ছিলেন না ঈশান। কোনও এক অদৃশ্য মেহের আলী যেন ক্রমশ তাঁর কানের কাছে বলে গিয়েছে,”তফাৎ যাও, সব ঝুট হ্যায়।” আইপিএলে চলছিলেন না, ভারতীয় দলের দরজাই যেন আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর জন্য। সেখান থেকে গতকালের প্রত্যাবর্তন। যেন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে তাঁর ভাগ্যচাকা। পাকিস্তান ম্যাচের জন্য ভারতীয় দলে বাজি ধরা হয়েছিল অভিষেক শর্মার উপর। অভিষেক শূন্য রানে আউট হলেও সমস্ত আলো যেন একা শুষে নিলেন ঈশান।
ম্যাচের শুরুতে দুই অধিনায়ক করমর্দন না করলে কী হবে, ঈশান যেন এসবকে মেনে নেওয়ার পক্ষপাতী নন। ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংসে মারলেন ১০টি চার, ৩টি ছয়। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই যেভাবে শাহিন আফ্রিদিকে আক্রমণ শুরু করলেন, দেখে কে বলবে যে কয়েক মাস আগেই নিজেকে ‘প্রিমিয়াম ফাস্ট বোলার’ বলে সম্বোধিত করেছিলেন শাহিন ? ২৭ বলে করলেন হাফ সেঞ্চুরি, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ভারত বনাম পাক যুদ্ধে দ্রুততম। ঈশান কিষান নামক সাইক্লোনের সামনে একসময় দিশেহারা লাগছিল সলমন আলি আগাকে। শাহিনের প্রথম ওভারেই ১৫ রান নিলেন ঈশান। ৭৭ রানের ইনিংস খেলে যখন তিনি ফিরছেন, তখন ভারতের স্কোর ৮৮/২। স্লো পিচ থাকায় বাকি ব্যাটারদের সামনে সলমন ‘স্পিনার’ নামক জুজু লেলিয়ে দিলেও ঈশান কাউকেই রেয়াত করলেন না। ম্যাচ শেষে তাঁর উক্তি,”আমি চেয়েছিলাম ওদের দৌড় করাতে। যতটা সাধারণ রাখা যায়, ততটা চেষ্টা করেছি। আমরা এই মোমেন্টাম ধরে রাখতে চাই।” পাকিস্তান অধিনায়কের টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম সমালোচনা করছেন তাঁরই দেশের প্রাক্তনীরা।
এই বিশ্বকাপের দলে একদম শেষমুহূর্তে সুযোগ পেয়েছেন ঝাড়খণ্ডের এই ক্রিকেটার। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘প্রিন্স’ শুভমান গিল বাদ পড়েছেন দল থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর চলাকালীন পরিচালন কমিটির কাছে ছুটি চেয়েছিলেন ঈশান। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথা বললেও অন্যান্য জায়গায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দল প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার কথা বললে খেলতে চান নি রাজ্যের হয়েও। এরপর থেকে যেন শুধুই অন্ধকার। এই বারের বিজয় হাজারেতে ভাল খেলার সুবাদে অবশেষে সেই বাতিল নামক কোয়ারেন্টাইন থেকে বেরোলেন ঈশান। প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁর ব্যাট যেন মাঠের বাইরে ফেলছে তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা যাবতীয় বিতর্ককে। বিশ্বকাপের গেমচেঞ্জার বলা হচ্ছিল যাঁকে, সেই অভিষেক শর্মা দুই ম্যাচ খেললেও এখনও রানের খাতা খুলতে পারেন নি। তাঁর বদলে ব্রাত্য ঈশানের ব্যাটেই আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ভারত। এর আগে ঝাড়খণ্ড থেকেই উঠে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। যাবতীয় প্রতিকূলতা টপকে ধোনি জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বমঞ্চে। ভারত বিশ্বকাপ জিতলে ঈশানকে আলাদা করে ধন্যবাদ দিতেই পারেন নির্বাচকরা। তাঁর জীবনেও যে কম ওঠাপড়া হয়নি এই কয়েক মাসে।