
কলকাতা : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম বার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইতালি। খেলার মাঠে ফুটবলের সূত্রেই উত্থান তাদের। চারবারের বিশ্বকাপজয়ীরা শেষ দুই বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সোমবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ইডেনে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করল ইতালি। প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলার খুশিতে কলকাতা পৌঁছে ছিলেন দলের মিডিয়া ম্যানেজার থেকে সিইও। দলের কেউ সুযোগ পেয়েছেন দাদু-ঠাকুমা ইতালিয়ান হওয়ার সূত্রে। কেউ আবার স্ত্রী ইতালিয়ান হওয়ার সূত্রে পেয়েছেন নাগরিকত্ব। এ সবের মধ্যেই সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে ইতালি দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। দলের সঙ্গে দেখা করতে চাননি সোনিয়া, এমনই অভিযোগ ইতালি দলের।
ইডেন কলকাতা তো বটেই, ক্রিকেট দুনিয়ার পীঠস্থান। সেখানেই টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইতালি। কিন্তু চতুর্থ ওভারেই চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান ইতালির ৪২ বছরের অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন। ইতালি শিবির সূত্রে, কাঁধের হাড় সরে গিয়েছে ম্যাডসেনের। তেমন হলে, গোটা বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যেতে পারেন তিনি । প্রথমে ব্যাট করে ২০৭ রান তুলেছে স্কটল্যান্ড। বড় রান পেয়েছেন ওপেনার জর্জ মুনসি। ৫৪ বলে ৮৪ রান করেছেন তিনি। ১৮ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ৪টি বিশাল ছক্কা। মাইকেল লিস্ক ৫ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে ইতালি। একমাত্র বেন ম্যানেনটি ছাড়া কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ম্যানেনটি করেন ৫২ রান। একসময় ইতালির স্কোর ছিল ১২৯-৫। সেখান থেকে মাত্র ৫ রানের মধ্যেই ইতালির বাকি ৫ উইকেট পড়ে যায়। ২০৮ রানের জবাবে ইতালি মাত্র ১৩৪ রানেই অল আউট। চোটের কারণে ব্যাট করতে অসমর্থ হন অধিনায়ক ম্যাডসেন। ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট পেয়ে ম্যাচের সেরা মাইকেল লিস্ক। ২ উইকেট পেয়েছেন মার্ক ওয়াটও।
এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ২০টি দল অংশগ্রহণ করেছে। ৫টি গ্ৰুপে ভাগ করা হয়েছে ২০টি দলকে। প্রত্যেক গ্ৰুপ থেকে ২টি দল সুপার এইটে কোয়ালিফাই করবে। সেখানে আবার দুই গ্ৰুপে থাকবে মোট ৮টি দল। দুই গ্ৰুপের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দল সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ করবে। দলের ভারতীয় ক্রিকেটার যশপ্রীত সিংহ, পেশায় ক্যাবচালক। ক্রিকেটের টানে কাজ ছেড়েছেন। ভাল উপার্জন না হওয়ায় লন্ডনে গিয়ে ক্যাব চালাতেন যশপ্রীত। ইতিমধ্যেই আন্দ্রে পির্লো থেকে রাহুল দ্রাবিড়, সবাই শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন ইতালি দলকে। ২০০৬ সালে শেষ যেবার ইতালি ফুটবল বিশ্বকাপ পায়, পির্লো ছিলেন সেই দলের সদস্য। প্রাক্তন বিশ্বজয়ীর শুভেচ্ছাই কি “চ্যাম্পিয়ন্স লাক” দেবে দলকে ? অধিনায়ক যে আগেই ছিটকে গিয়েছেন।