
কলকাতা : এক দল প্রথমবার রঞ্জির ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে। অন্য দল ১১ বছর পর রঞ্জির ফাইনালে। কর্ণাটকের হুবলিতে মুখোমুখি হয়েছে এই দল। একদিকে আকিব নবি, অন্যদিকে কে এল রাহুল। এই দুজনের দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে সমর্থকেরা। বাংলার সুদীপ ঘরামীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেও সেমী ফাইনালের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে শেষ হয়ে যায় বঙ্গ ব্রিগেডের ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছেন নবি। এই দুর্দান্ত স্পেলের ফলে ভারতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন তিনি। উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় তুলেছিল কর্ণাটক। অধিনায়ক দেবদত্ত পাড়িক্কালের ২৩২ ও কে এল রাহুলের ১৪১ রানের সুবাদে তাদের স্কোর হয়েছিল ৭৩৬। সেমিফাইনাল ড্র হয়ে যাওয়ায় ফাইনালে ওঠার সুযোগ পায় কর্ণাটক।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জম্মু অধিনায়ক পরশ ডোগরা। ওপেনার কামরান ইকবাল মাত্র ৬ রানের মাথায় আউট হন। আর এক ওপেনার ইয়াসির হাসান ৮৮ রান করে দলকে একটা ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দেন। ১১৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন শুভম পুন্ডির। ১২টি চার ও ২টি ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। অধিনায়ক ডোগরা মাত্র ৯ রানের মাথায় আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন। জম্মু দলের আরেক স্তম্ভ আব্দুল সামাদ অপরাজিত রয়েছেন ৫২ রানে। গোটা প্রতিযোগিতায় ৭০০ রানেরও বেশি করে ফেলেছেন সামাদ। প্রথম দিনের শেষে জম্মুর স্কোর ২৮৪/২। ২টি উইকেটই পেয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। বিজয় বৈশাখ বা শ্রেয়স গোপাল – সবারই ভাঁড়ার শূন্য। দ্বিতীয় দিনে কর্ণাটকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। যত জলদি জম্মু কাশ্মীরকে তাঁরা অল আউট করতে পারবেন, তত মঙ্গল।
২০১৪-১৫ সালে শেষবার রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল কর্ণাটক। এরপর থেকে শুধুই ব্যর্থতা। এই কর্ণাটক দলে রয়েছেন কে এল রাহুল, ময়ঙ্ক আগরওয়াল, শ্রেয়স গোপাল, দেবদত্ত পাড়িক্কাল , করুন নায়ারের মতো তারকারা। উল্টোদিকে ক্রিকেটমহলে তোলপাড় ফেলে দেওয়া আব্দুল সামাদ, আকিব নবি, পরশ ডোগরার মতো উদীয়মান সূর্যরা। জম্মু ট্রফি জিতলে তারাই হবে রঞ্জির ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দল। এই তথ্যই তাতাবে ভূস্বর্গের ‘ভয়ঙ্কর’দের।