
কলকাতা : হৃত্ত্বিক রোশন অভিনীত ‘সুপার থার্টি’ সিনেমাটা দেখেছেন জম্মু-কাশ্মীরের কোচ অজয় শর্মা ? যেখানে ৩০ জন দুঃস্থ, প্রান্তিক ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শিক্ষার আসরে লড়াইয়ে নেমেছিলেন পর্দার আনন্দ কুমার? অজয়ের কাহিনীটাও তো অনেকটা একই। নামে জম্মু কাশ্মীরের কোচ হলেও যেভাবে ২০২২ সাল থেকে এই আকিব, সামাদদের ঘষেমেজে তৈরী করেছেন তিনি, এর জন্য আজকের সাফল্য তাঁরও প্রাপ্য। ৬৭ বছরের রঞ্জি খেলার ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনাল পৌঁছে প্রথমবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক অনন্য রেকর্ড গড়ল জম্মু। ফাইনালে শুরু থেকেই তারকা সমৃদ্ধ কর্ণাটকের বিরুদ্ধে একপেশে লড়াই চালিয়ে তাদের ক্রমশ ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দিল জম্মু।
অতীতে কোনওদিন রঞ্জির শেষ চারেও উঠতে পারেনি জম্মু। এই বছর যেন উলটপুরাণ। মধ্যপ্রদেশ, বাংলা, কর্ণাটক – তিন শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে জয় পেল জম্মু। প্রথম ইনিংসে তাদের ৫৮৪ রানের জবাবে ২৯৩ রানে অল আউট হয়ে যায় কর্ণাটক। ২৯১ রানের লিড নিয়ে কর্ণাটককে ফলো অন না করিয়ে আবার ব্যাটে নামে জম্মু। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল জম্মু। সেখান থেকে পাল্টা লড়াই শুরু করেন কামরান ইকবাল ও সাহিল লথরা। ইকবাল অপরাজিত থাকেন ১৬০ রানে। লোথরা অপরাজিত রইলেন ১০১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ডিক্লেয়ার দেওয়ার সময় তাদের স্কোর ৩৪২/৪। এই জায়গা থেকে কর্ণাটকের হাতে আর ম্যাচ ছিলও না। হার মেনে নেন দেবদত্ত পাড়িক্কালরা। জম্মুর রঞ্জি জয়ের কারিগর অনেকে। পরশ ডোগরা, আকিব নবি, কানহাইয়া ওয়াধাবন, আব্দুল সামাদ, যুধবীর সিংহ প্রমুখ। নবি ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ৬০ উইকেট। সামাদের মোট রান ৭৪৮। দলের বাকিরাও জমাট পারফরম্যান্স করেছেন।
ফিনিক্সের মতো জম্মু কাশ্মীরের উত্থানে খুশি ভারতীয় ক্রিকেটমহল। কয়েক মাস আগে একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘রিয়েল কাশ্মীর’ ফুটবল ক্লাবকে নিয়ে ওয়েবসিরিজ বানানো হয়েছিল। যদি একই ভাবে পরশ, নবিদের নিয়েও সিনেমা হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। নবি যেন এই দলের প্রধান গ্ল্যাডিয়েটর। কাশ্মীরের বিতর্কিত জায়গা বারামুল্লা থেকে উত্থান নবির। আইপিএলের দল দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে কিনেছে ৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায়। এখনই তাঁকে ভারতীয় দলে দেখতে চাইছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন,”জম্মু-কাশ্মীর দেখিয়ে দিল, পরিশ্রম ও খিদে থাকলে কি করা যায়। আকিব নবি ইংল্যান্ডে খেলার যোগ্য। ওর ইংল্যান্ডে অভিষেক করা উচিত।” নবিদের এই জয়ে পরিধি বেড়ে গেল ভারতীয় ক্রিকেটের। যেখানে ক্লাব ক্রিকেট বলে কিছু নেই, গোটা রাজ্যে মাঠ মাত্র ২টি, সেখানে জম্মুর এই জয় অনেকাংশে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে পরশ, সামাদদের।