
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম কোয়ালিফায়ারে আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। লিগ পর্বে শীর্ষস্থানে ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল। এ বার প্রথম দল হিসেবে ফাইনালও নিশ্চিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথম কোয়ালিফায়ারে কেকেআরের সামনে ছিল বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইন আপের সানরাইজার্স। যদিও মিচেল স্টার্ক এবং স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সানরাইজার্স ব্যাটিং দাপট দেখাতে পারেনি। ১৬০ রান তাড়ায় ৩৮ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে জয় ও ফাইনাল নিশ্চিত করে কলকাতা নাইট রাইডার্স। চেন্নাইতে ফাইনাল জিতে ট্রফি নিয়ে ফেরাই লক্ষ্য কেকেআরের।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের গন্তব্য এ বার চেন্নাই। ২৬ মে সেখানেই ফাইনাল। এক যুগ আগেও চেন্নাই! ঠিক কী হয়েছিল? পড়ুন বিস্তারিত: ডাকছে চিপক, ডাকছে ট্রফি… এক যুগ আগের গম্ভীর জমানায় ফিরতে মরিয়া KKR
প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল, প্রথম দল হিসেবে ফাইনালেও কলকাতা নাইট রাইডার্স। ম্যাচ রিপোর্ট পড়ুন বিস্তারিত: স্টার্কের দাপট, ভেঙ্কটেশ-শ্রেয়সের আইয়ারি; এক সুযোগেই ফাইনাল
বোলাররা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিশেষ করে বলতে হয় মিচেল স্টার্কের কথা। পাওয়ার প্লে-তেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিল। ব্যাট হাতে দুই আইয়ার ভেঙ্কটেশ ও শ্রেয়স একই দাপট দেখালেন। ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে ফাইনালে কেকেআর।
নটরাজনের অনবদ্য বোলিং। কেকেআর যদিও খেই হারায়নি। গুরবাজের উইকেট পড়লেও রান রেটে প্রভাব পড়তে দেননি সুনীল নারিন ও তিনে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার। পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৬৩ রান তুলে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
প্রথমে ক্যাপ্টেন কামিন্স, এ বার ভুবনেশ্বর কুমার। কামিন্সের ক্ষেত্রে বল অনেকটাই উঁচুতে ছিল। তবুও রিভিউ নেন। রিভিউ নষ্ট হয়। পরের ওভারের প্রথম বলেই রিভিউ ভুবনেশ্বর কুমারের। তিনি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ায় রিভিউ নষ্ট। পরে চাপ হতে পারে সানরাইজার্সের।
টার্গেট ১৬০। রান তাড়া শুরু কেকেআরের। চিন্তা গুরবাজ! তার কারণ, ম্যাচ প্র্যাক্টিস পাননি এই কিপার ব্যাটার। সরাসরি কোয়ালিফায়ারে ব্যাট হাতে নামতে হয়েছে। উল্টোদিকে সুনীল নারিন বিধ্বংসী ফর্মে। অনবদ্য কভার ড্রাইভে ভরসা দিলেন গুরবাজ।
মাত্র ১২৬ পানে ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল সানরাইজার্স। তখনও বাকি চার ওভার। আদৌ ২০ ওভার ব্যাট করতে পারবে কিনা, সন্দেহ ছিল। সানরাইজার্সকে ভরসা দিলেন ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স। শেষ অবধি ১৫৯ রানে অলআউট সানরাইজার্স। প্যাট কামিন্স ২৪ বলে ৩০ রান করেন।
বিধ্বংসী ব্যাটিং আক্রমণ থাকা সানরাইজার্স ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। এখনও বাকি চার ওভার। ১২৬ স্কোর সানরাইজার্সের। তাদের ভরসা ক্যাপ্টেন কামিন্স।
সামাদের ভুল কাজে লাগান আন্দ্রে রাসেল। তাঁর দুর্দান্ত পিক আপ থ্রো, রাহুলকে রান আউট করেন গুরবাজ। পরের বলেই সানরাইজার্সের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার সনবীর সিংকে বোল্ড করেন সুনীল নারিন।
কেকেআরকে প্রবল চাপে রেখেছিল রাহুল-ক্লাসেন জুটি। তাঁকে ফিরিয়ে বড় ব্রেক থ্রু বরুণ চক্রবর্তীর। বাউন্ডারি লাইনে কোনও ভুল করেননি রিঙ্কু সিং। ক্রিজে রাহুলের সঙ্গী সামাদ।
কেকেআরের চাপ বাড়াচ্ছে রাহুল-ক্লাসেন জুটি। পাওয়ার প্লে-তে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। বিস্তারিত পড়ুন: ব্যর্থ ট্রাভি-ষেক জুটি, পাওয়ার প্লে-তেই SRH-কে ‘দুর্বল’ করে দিলেন মিচেল স্টার্ক
পাওয়ার প্লে-তে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৫ রান তুলতে পারল সানরাইজার্স। সৌজন্যে কেকেআরের বিধ্বংসী বোলিং। সানরাইজার্সের ব্যাটিং আক্রমণ শিরোনামে থেকেছে। সমস্ত আলো কেড়ে নিলেন মিচেল স্টার্ক। পাওয়ার প্লে-তেই তিন উইকেট। আর একটি উইকেট বৈভব অরোরার। এ বার কেকেআর বোলিংয়ের মূল দায়িত্ব নারিনের উপর।
আইপিএল নিলামে ২৪.৭৫ কোটিতে স্টার্ককে নেওয়ায় প্রচুর প্রশ্ন উঠেছিল। শুরু দিকে পারফরম্যান্সেও অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন স্টার্ক। এখন যেন নিজের মূল্য বোঝাচ্ছেন। কোয়ালিফায়ারের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ, এই মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছেন কয়েক মাস আগে। সেই আমেদাবাদে পাওয়ার প্লে-তেই তিন ওভার বোলিং করানো হল তাঁকে দিয়ে। এক্সট্রা ওভারে জোড়া উইকেট সহ ২২ রান দিয়ে পাওয়ার প্লে-তে মোট তিন উইকেট স্টার্কের।
এ মরসুমে রাহুল নাম শোনা গেলেও রাহুল ত্রিপাঠীর নাম খুব একটা শোনা যায়নি। গত ম্যাচে দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলেছিলেন সানরাইজার্স ব্যাটিংয়ে তিনে নামা রাহুল ত্রিপাঠী। কেকেআরকেও চাপে রাখছেন রাহুল। একটা সময় কেকেআর জার্সিতে খেলেছেন।
প্রথম বার প্লে-অফ খেলার সুযোগ পেয়েছেন কেকেআরের তরুণ পেসার। আর প্রথম প্লে-অফের প্রথম ওভারেই উইকেট! বিধ্বংসী ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মা ইন ফিল্ড ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন। আন্দ্রে রাসেল ক্যাচ নিতে ভুল করেননি। প্রথম দু-ওভারের মধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ওপেনিং জুটি ডাগআউটে!
ইনিংসের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে হেডের উইকেট ছিটকে দেন স্টার্ক। ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হলেও সেটি অল্পের জন্য ক্যাচ হয়নি। প্রথম ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে হেডের দামি উইকেট স্টার্কের।
অজি বনাম অজি। গত ম্যাচে গোল্ডেন ডাক হলেও মরসুমে বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছেন ট্রাভিস হেড। কেকেআরের প্রধান চিন্তা প্রতিপক্ষ ওপেনিং জুটি। ২৪.৭৫ কোটির পেসার মিচেল স্টার্ক আবারও বোঝালেন, তিনিই বড় ম্যাচের প্লেয়ার। ছিটকে দিলেন ট্রাভিস হেডের উইকেট। টানা দু-ম্যাচে গোল্ডেন ডাক।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দু-বারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে শেষ ট্রফি এসেছিল ২০১৪ সালে। এক দশকের হতাশা কাটবে? প্লে-অফে কেকেআরের পরিসংখ্যান কী বলছে? বিস্তারিত পড়ুন: অগ্নিপরীক্ষার সামনে KKR, নাইটদের প্লে অফ ও নক আউট ভাগ্য কেমন?
টস, টিম এবং বিস্তারিত পড়ুন এই লিঙ্কে: কেকেআরকে রানের পাহাড়ের লক্ষ্য দিতে চায় অরেঞ্জ আর্মি, দেখুন Qualifier 1 এ দুই দলের একাদশ
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত সানরাইজার্স ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্সের। কেকেআর ক্যাপ্টেন শ্রেয়স অবশ্য জানালেন, তিনি টস জিতলে ফিল্ডিংই নিতেন।
আমেদাবাদে গত ম্যাচটি ভেস্তে গিয়েছিল কেকেআরের। আজ অবশ্য আকাশ পরিষ্কার। আর এই ম্যাচ ভেস্তে গেলে ফাইনালে উঠবে কলকাতাই। ম্যাচ হলে, জিতলে সরাসরি ফাইনালে। হারলে, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। তবে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় কভার দেরিতে সরানো হয়।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৭তম সংস্করণের প্রথম কোয়ালিফায়ার আজ। আমেদাবাদে মুখোমুখি হতে চলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তার আগে পড়ে নিন ম্যাচ প্রিভিউ: প্রথম কোয়ালিফায়ারে আজ KKR বনাম SRH, বাউন্ডারিতেই ফয়সালা!