
কলকাতা : যা আইপিএলের দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে কোনওদিন হয়নি, তা আজ হল। আইপিএলে এই প্রথমবার কোনও ভারতীয় ব্যাটার এক ইনিংসে ১৫০ বা তার বেশি রান ছুঁলেন। দিল্লির হয়ে আজ পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আজ ১৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন কে এল রাহুল (KL Rahul)। এর আগে এই রান করেছিলেন মাত্র দুই জন। ২০০৮ সালে কেকেআরের ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ও ২০১৩ সালে আরসিবির ক্রিস গেইল। ম্যাককুলাম করেছিলেন ১৫৮ রান। গেইল করেছিলেন ১৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। কিন্তু প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ে রাহুল বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু ফুরিয়েই যাননি তা নয়, ভয়ঙ্করভাবে ‘কামব্যাক’ করলেন।
টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রথম থেকেই ঝড় তুলেছিলেন রাহুল ও পাথুম নিশঙ্কা। অর্শদীপের বলে মাত্র ৭ বলে ১১ রান করেই আউট হয়ে যান পাথুম। এরপর থেকেই যেন মাঠে তান্ডব শুরু করেন নীতিশ রানা ও কেএল রাহুল। এর আগে অনেক ম্যাচেই উপেক্ষিত হয়েছিলেন নীতিশ। আজ ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর ব্যাট আজও বিক্রম দেখাতে ভুলে যাননি। কয়েক বল আগেই বাউন্ডারি লাইনে তাঁর দুরন্ত ক্যাচ ধরেছিলেন মার্কাস স্টোইনিস, কিন্তু তাঁর পা বাউন্ডারি লাইনে থেকে যাওয়ায় সেই ক্যাচ বাতিল হয়ে যায়। তাঁদের দুজনের জুটিতে উঠল মোট ২২০ রান। আর ৯ রানের জন্য ভাঙল না কোহলি-এবির রেকর্ড। ২০১৬ সালে গুজরাট লায়ন্সের ২২৯ রানের পার্টনারশিপ করেছিলেন দু’জন। আজও সেই রেকর্ড রইল অক্ষত। শেষ ওভারে নিজের ১৫০ রানে পৌঁছলেন রাহুল। তারপরেই সেই চিরাচরিত সেলিব্রেশন। দুটো আঙ্গুল মুখে ঢুকিয়ে হুইসল দেওয়া এবং ব্যাট দর্শকদের দিকে দেখানো। আজ ৪৭ বলে ১০০ রানের গন্ডি ছুঁয়েছেন রাহুল। ইনিংস শেষে অপরাজিত ৬৭ বলে ১৫২ রানে। মেরেছেন ১৬টি বাউন্ডারি, ৯টি ওভার বাউন্ডারি।
রাহুলের ও রানার দাপটে ২০ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর ২৬৪/২। এটাই এই আইপিএলে সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল পাঞ্জাবের করা ২৫৪ রান। কিন্তু আজ রাহুলের ব্যাট যেন মনে করাল, এখনও তিনি ফুরিয়ে যাননি। এই নিয়ে আইপিএলে ৬ নম্বর সেঞ্চুরি করলেন রাহুল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনও ফরম্যাটে আজ রাহুলের ১৫২ রানের ইনিংসই কোনও ভারতীয়ের করা সর্বোচ্চ রান। ২০১৯ ও ২০ ২০২০ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে দুটি, ২০২২ সালে লখনৌয়ের জার্সিতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচেই দুই সেঞ্চুরি ও ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দিল্লির হয়ে দুই সেঞ্চুরি করলেন রাহুল। অর্থাৎ, প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনটি আলাদা আলাদা দলের জার্সিতে দুটি করে সেঞ্চুরি করে আরও এক রেকর্ড গড়লেন রাহুল। দিন কয়েক আগেই তাঁকে নিয়ে চর্চা হচ্ছিল, আজ সব সমালোচনাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন রাহুল।