Rishabh Pant: ঋষভ পন্থের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই সেই নায়কের!
India vs England, Champions Trophy 2025: বিবেকের ডাকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন গুরুতর দুর্ঘটনায় পড়া 'এক' ব্যক্তিতে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরই পন্থ খোঁজ নেন। কৃতজ্ঞতা জানাতে সেই রজতকে একটি স্কুটার উপহার দিয়েছিলেন ভারতীয় দলের কিপার ব্যাটার। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন সেই রজতই।

সেই রাতটা যেমন ঋষভ পন্থ ভুলতে পারবেন না, তেমনই ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরাও। মাকে সারপ্রাইজ দিতে গাড়ি নিয়ে বাড়ি রওনা হয়েছিলেন। নিজেই ড্রাইভ করছিলেন পন্থ। কিন্তু মাঝরাস্তায় গুরুতর দুর্ঘটনা। সে সময় ঠিক যেন দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন দু-জন। স্থানীয়দের সহযোগিতার দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান ঋষভ পন্থকে। তাঁদেরই একজন রজত। কার জীবন বাঁচিয়েছিলেন সেটাই জানতেন না। চিনতেন না ঋষভ পন্থকে। বিবেকের ডাকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন গুরুতর দুর্ঘটনায় পড়া ‘এক’ ব্যক্তিতে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরই পন্থ খোঁজ নেন। কৃতজ্ঞতা জানাতে সেই রজতকে একটি স্কুটার উপহার দিয়েছিলেন ভারতীয় দলের কিপার ব্যাটার। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন সেই রজতই।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী, বুছা গ্রামে থাকেন রজত। ২৫ বছরের রজতের ভালোবাসার মানুষ মনু কাশ্যপ (২১)। কিন্তু ভিন্ন জাতের হওয়ায় পরিবার থেকে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। একসঙ্গে জীবন কাটাতে পারবেন না, এই আক্ষেপ, ভয়, আতঙ্কে একসঙ্গে জীবন দেওয়ার ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত। কীটনাষক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা রজত ও তাঁর প্রেমিকার। গ্রামের জমিতে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিলেন। যতক্ষণে দু-জনের পরিবার সেখানে আসে, বড়রকমের ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। দু-জনকেই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন রজতের ভালোবাসার মানুষটি। আর রজতকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসাকেন্দ্রে।
ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে একদিকে যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, তখনই নতুন বিপদ। প্রেমিকার পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের মেয়েকে বিষ খাইয়ে মেরেছে রজত। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মেয়েটির মা আসার আগে কোনওরকম কেস ফাইল হয়নি। পরে তা হয়েছে। মনুর মায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মুজফ্ফরনগরের এসপি সত্যনারায়ণ প্রজাপত টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মেয়েটির পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, রজতই বিষ খাইয়েছে।’
রজতের শারীরীক পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসক দীনেশ ত্রিপাঠী বলেছেন, ‘ধীরে ধীরে বিপদ কিছুটা কাটিয়ে উঠছেন। দু-জনেই শক্তিশালী কীটনাষক খেয়েছে। আমরা দ্রুতই চিকিৎসা শুরু করি। মনুর পরিবার নিজেদের মেয়েকে অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেয়। রজত এখানে অনেকটাই উন্নতি করছে।’
