
কলকাতা : দুই সপ্তাহ ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলছে সংঘর্ষ। প্রায় প্রতিদিনই দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। গতকালও ৫ জন তালিবানী সৈন্য নিহত হন। এরমধ্যেই খবর ছড়ায়, আফগানিস্তানের একটি হাসপাতালে হামলা করেছে পাকিস্তান। কাবুলের এক হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪০০ জনের। সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে দেখানো হচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীরা উদ্ধারকার্যে সাহায্য করছেন। এই ভিডিও নিয়ে সরব আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান, মহম্মদ নবিরা।
নিজের এক্স হ্যান্ডলে রশিদ সেই হামলার ছবি দিয়ে লিখেছেন,”পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত, মর্মাহত। হাসপাতালে হওয়া ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত – যেকোনও হামলাই অনভিপ্রেত। রমজানের পবিত্র মাসে এই হামলা আসলেই খুব আতঙ্কের। এতে হিংসা ও সন্ত্রাস আরও বাড়বে।” নিজের পোস্টে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাহায্যপ্রার্থনা করেছেন রশিদ। বলেছেন,”রাষ্ট্রপুঞ্জ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলিকে আমি সাহায্য করার অনুরোধ করছি। আমি এই কঠিন সময়ে আমাদের আফগান ভাই বোনদের পাশে রয়েছি। এই কঠিন সময় আমরা কাটিয়ে উঠব।” আফগান দলের লেজেন্ড মহম্মদ নবিও এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনিও হামলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, “কাবুলের হাসপাতালে অনেকগুলো আশার মৃত্যু ঘটল। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে বেঘোরে প্রাণ হারালেন এতগুলো মানুষ। এর জন্য দায়ী পাকিস্তান। রমজানের ২৮তম দিনে প্রাণ হারালেন তাঁরা।” পাকিস্তানের এই হামলার সঙ্গে ইজরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন,”এই হামলার পর আর ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানিদের তফাৎ কোথায় ?” দুই দেশের মধ্যে যাবতীয় দ্বন্দ্বের জন্য দায়ী একমাত্র পাকিস্তান।
সোমবারের ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে হামলা হওয়ায় হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কাবুলের ওই হাসপাতালে কেবল মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করা হয়। সোমবার রাতে এই হাসপাতালে পাকিস্তান হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এরপরই আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘটনার কথা জানান। তাঁর কথায়, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালে হামলা হয়েছে। এই হামলায় প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু ও ২৫০ জন জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এবার আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান ম্যাচ হলে কি পরিস্থিতি হয়, দেখার দিকে আগ্রহী ক্রিকেটপ্রেমীরা।