
কলকাতা: গ্রুপ লিগের শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল দল। কোনও রকমে পরিত্রাণ পেলেও ভারতের কাছেই হারতে হয়েছিল। সেই পাকিস্তান শেষ চারের রাস্তা খুঁজে পাবে কিনা, তা জানা যাবে রাতে। তার আগেই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে গেল। না বিশ্বকাপে নয়, পিসিবি ঠিক করেছে গ্রিন আর্মির ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে দেওয়া হবে। নতুন দায়িত্বে কে আসতে চলেছেন, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে দুটো নাম ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে এমন ঘটনা নতুন নয়। যে কোনও টুর্নামেন্টে ভরাডুবি হলেই ছাঁটাকেই একমাত্র রাস্তা বলে মনে করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ক্যাপ্টেন বদল করা হয়, এর তার ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। যাতে বোঝানো যায় ব্যর্থতার জন্য পিসিবি কী করেছে।
অবশ্য ক্যাপ্টেন সলমন আলি আঘা শুধু তোপের মুখ পড়তে চলেছেন, তাই নয়। টিমের এক সিনিয়রের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ার শেষ হওয়ার মুখে। তিনি আর কেউ নন, বাবর আজম। সারা বিশ্বকাপে রান পাননি। সিনিয়র হিসেবে দলকে টানতে ব্যর্থ। তাঁকে আর টি-টোয়েন্টি টিমে রাখার প্রয়োজন অনুভব করছেন না নির্বাচকরা। পিসিবি টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্সে একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন নির্বাচকমণ্ডলী এবং কোচ মাইক হেসনকে। তাঁরা নিশ্চিত করেছিলেন, সাফল্য পাবে পাকিস্তান। কিন্তু সুপার এইট পর্বের পর পাকিস্তান কার্যত বিদায়ের মুখে। শ্রীলঙ্কাকে হারালেও সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত নয়। বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রায় দুই বছরের সময় দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। একটি সূত্র পিটিআই-কে জানিয়েছে, “বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির পর কোচ এবং নির্বাচকমণ্ডলীর কাজে একেবারেই খুশি নন নকভি।”
চেয়ারম্যান নকভি দলে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চাইছেন। অধিনায়ক সলমন আলি আঘা, দলের সিনিয়র ক্রিকেটার বাবর আজম, উইকেটকিপার উসমান খান সহ একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দল দেশে ফেরার পর হেসন ও নির্বাচকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন নকভি। তাঁর লক্ষ্য, তরুণ ক্রিকেটারদের দলে সুযোগ দেওয়া। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, “সলমন, বাবর আজম, উসমান খান এবং আরও কয়েকজনের টি২০ আন্তর্জাতিক কেরিয়ার বিশ্বকাপের পরই কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের টি২০ দলে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।”
নতুন অধিনায়ক কে হতে পারেন? এই মুহূর্তে শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আঘার উত্তরসূরী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। দু’জনেই আগে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শাদাব ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ৬টি ম্যাচে এবং শাহিন ২০২৪ সালে ৫টি ম্যাচে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি টিমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু খুব উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত ১২ মাসে দু’জনেই কখনও না কখনও বাদ পড়েছেন দল থেকে। কিন্তু ব্যাটার ও অধিনায়ক হিসেবে আগার ব্যর্থতার পর পিসিবি মনে করছে, দলের হাল ধরার জন্য তাঁরাই উপযুক্ত বিকল্প।