
কলকাতা : ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল। কলকাতায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিকেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা দল। একই মাঠে জয়ের লড়াই ছেলেদের। বেন স্টোকসের ওভার। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিততে গেলে করতে হবে ৬ বলে ১৯ রান। এরপরেই ‘ক্যারিবিয়ান ক্যারিশমা’ দেখল ক্রিকেটের নন্দনকানন। স্টোকসকে টানা ৪ বলে ৪ ছয় মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যাম্পিয়ন করলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। সেখান থেকে ১০ বছর পরের পাল্লেকেলে। শ্রীলঙ্কাকে জিততে গেলে করতে হবে ৬ বলে ২৮। বিপক্ষে পাকিস্তান। ঘটনাচক্রে, এই ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় ঘটে গেছে পাকিস্তানের। দাসুন শনাকা বনাম শাহীন শাহ আফ্রিদি। ওভারে এল ২২ রান। ৪, ৬, ৬, ৬, ০, ০। শেষ বলটা নিয়ে এখনও বিতর্ক মিটছে না। আদৌ কি ওটা ওয়াইড বল ছিল ? সেমিফাইনালে উঠতে গেলে পাকিস্তানকে জিততে হত ৬৪ রানে। পাকিস্তান জিতল ৫ রানে। ফলে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘটে গেল পাকিস্তানের।
শনিবার টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামার সময়ই অঙ্কটা পরিষ্কার ছিল পাকিস্তানের কাছে। শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে ৬৪ রানে। পাকিস্তান ২১২ রান তোলার ফলে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৪৭ বা তারও কম রানে আটকাতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু লোকে ভাবে এক, হয় আর এক। দাসুন শনাকার দুরন্ত লড়াইতে প্রায় জিতে গিয়েছিল লঙ্কা। শনাকা অপরাজিত রইলেন ৭৬ রানে। খেলেছেন ৩১ বল। শেষ ওভারে দলকে প্রায় জিতিয়ে দিচ্ছিলেন শনাকা। ৫ রানে জিতেও বিদায় ঘটে গেল পাকিস্তানের। নেট রান রেটে পাকিস্তানকে (-০.১২৩) পিছনে ফেলে ইংল্যান্ডের সঙ্গে শেষ চারে উঠে গেল নিউজিল্যান্ড (+১.৩৯০)। এই মরণবাঁচন ম্যাচে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন দুই পাক ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জমান। বাদ পড়েছিলেন বাবর আজম। দুরন্ত শতরান করলেন ফারহান (১০০)। রান পেলেন ফখরও (৮৪)। পাকিস্তান করেছিল ২১২/৮। এর অর্থ হয়ে যায় ১৪৭ বা তার কম রানে আটকাতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। তবে তা সম্ভব হল না শনাকার জন্য।
এই ম্যাচের ফল খুশি এনে দিয়েছে বঙ্গ ক্রিকেট মহলে। পাকিস্তান শেষ চারে না ওঠায় ৪ মার্চ প্রথম সেমিফাইনাল হতে চলেছে ইডেনে। ৫ মার্চ দ্বিতীয় সেমিফাইনাল মুম্বইতে। কলকাতায় মুখোমুখি হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। মুম্বইতে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড ও আজকের ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের বিজয়ী। তার আগে আজকের ম্যাচে জিততেই হবে ভারতকে। নাহলেই বিদায় ঘটে যাবে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।