
কলকাতা : তখন সদ্য ম্যাচ শেষ হয়েছে। হাসিমুখেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন অঙ্গকৃষ, রিঙ্কুরা। হাসিমুখে ঘোরাই স্বাভাবিক। ১৫৫ রান করে ম্যাচ টাই, সেখান থেকে সুপার ওভারে (Super Over) ম্যাচ জেতা – কেকেআরের জন্য কাল অনেক রসদ মজুত ছিল। সেই জন্যই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে বেশ তৃপ্ত দেখাল নাইট অধিনায়ক রাহানেকে (Ajinkya Rahane)। বললেন,”আজ জয় নিয়ে বেশ খুশি। ১৬ ওভার ব্যাট করার পর যেভাবে আমরা ব্যাট করেছি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রিঙ্কুর ইনিংসটাই ফারাক গড়ে দিয়েছে।”
কেকেআর সমর্থকেরা রিঙ্কুর (Rinku Singh) নতুন নাম দিয়ে ভূষিত করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসের (Rajasthan Royals) বিরুদ্ধে জেতালেন, গতকাল ৩১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট চলে যাওয়ার পরে দলকে একা টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন রিঙ্কু। শেষে দিগভেষ রাঠীকে (Digvesh Rathi) শেষ ওভারে ৪ বলে ৪ ছক্কা মেরে ভদ্রস্থ স্কোরে নিয়ে গেলেন কেকেআরের (KKR) স্কোরকে। শুধু ৫১ বলে ৮৩ রানের ইনিংসই খেললেন না, দলকে পয়েন্টস টেবিলে উপরের দিকেও নিয়ে এলেন। এই নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করায় রিঙ্কু (Rinku Singh) বললেন,”আমার লক্ষ্য ছিল, কী করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। আমি শুধু স্ট্রাইক রোটেট করতে চেয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল, ম্যাচটা শেষ অবধি নিয়ে যাওয়ার। তাই বেশি ঝুঁকি নিইনি। শেষ ওভারে স্পিনারকে বল করতে দেখেই আক্রমণে গেছি।”
শুধু ব্যাটে বড় ইনিংসই নয়, সুপার ওভারে দারুন একটি ক্যাচও নিয়েছেন রিঙ্কু। সেই নিয়েই তাঁকে জিজ্ঞেস করায় তাঁর উত্তর,”ছোট থেকেই ফিল্ডিং করতে ভালবাসি। আমি বেশি ফিট তাই জোরে দৌড়োতে পারি। মাঠে অনেকটা জায়গা কভার করা আমার পক্ষে সহজ।” সত্যিই তো, যেভাবে গতকাল মার্কর্যামের (Aiden Markram) ক্যাচ ধরলেন রিঙ্কু, তা তো প্রশংসাযোগ্য। লং অন বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ ধরেছিলেন রোভম্যান পাওয়েল (Robhman Powell) । ভারসাম্য রাখতে না পেরে লং অফের দিকে বল ছুঁড়ে দেন তিনি। রিঙ্কু সেখান থেকেই বেশ নাটকীয়ভাবে ক্যাচ ধরেন। এই নিয়ে রিঙ্কু বললেন,”আসলে আমি তৈরী ছিলাম না। কোনওভাবে বল ধরেছি।”
প্রথমে টানা ৫ ম্যাচ হার, সেখান থেকে টানা ২ ম্যাচ জয়। বাংলার এক বিখ্যাত বাণী রয়েছে,”রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে – যখনই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও। আমি রক্ষা করিব।” এই কথাটা আগামী সময়ে রিঙ্কু বললে বোধ হয় অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।