
কলকাতা : রোমারিও শেপার্ডের বলটা মিড অনের উপর দিয়ে বেরিয়ে যেতেই লেখা হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য। ইডেনের পিচে সহসা বসে পড়লেন সঞ্জু স্যামসন। দু’হাত দুদিকে প্রসারিত করে ইষ্টদেবতাকে প্রণাম করলেন একবার। ম্যাচের নায়ক কি ঈশ্বরকেই ধন্যবাদ জানালেন ? এত প্রত্যাখ্যানের পরও এত শান্ত ? জীবনে হাজার চড়াই-উৎরাই সামলে, হাজার প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতকে ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়ে দেশের নায়ক হয়ে যাওয়ার এই সুযোগ বারবার আসে নাকি ? সঞ্জু নিজেও কি জানতেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে তাঁর জীবনের গতিপথ ?
বিখ্যাত কবি চার্লস বুকাওস্কি একটা কথা বলেছিলেন,”ইউ আর অ্যালোন। অ্যান্ড বিলো দা স্টেজ দা সিটস আর এম্পটি। হোয়াই ডু ইউ কিপ অ্যাক্টিং ?” সত্যিই তো, নীরবে নিভৃতে একা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সঞ্জু। প্রত্যেকবার হয়ত একটা সুযোগের অপেক্ষা করেছিলেন। কাল প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে এখনও প্রয়োজন দলের। গতকালের দর্শকরা নাই বা মনে রাখতে পারেন সঞ্জুর এই ইনিংস, ইডেন মনে রাখবে। কম ছেলেখেলা হয়নি তাঁকে নিয়ে। নামিবিয়া ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন। তাও অভিষেক শর্মার বদলে। অভিষেক হাসপাতালে ভর্তি না হলে হয়ত শিকে ছিঁড়ত না সঞ্জুর ভাগ্যে। বরাবরই সুযোগ পাওয়া নিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়। গতকাল পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়েও মাঝের ওভারে ভারত যে টিকে রইল, তার একমাত্র কারণ সঞ্জু। প্রথমে তিলক, পরে হার্দিক – ভাল পার্টনারশিপ করে একবারও ম্যাচ হাতের বাইরে বেরোতে দেননি সঞ্জু। ৫০ বলে ৯৭ করে ভেঙে দিলেন কোহলির রেকর্ড। ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমসিজিতে কোহলি করেছিলেন অপরাজিত ৮২ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। সঞ্জুর মতোই অবস্থা কয়েক বছর আগে ছিল আরেক ব্রাত্য নায়কের। জেমাইমা রড্রিগেজ। ২০২২ বিশ্বকাপে দলেই সুযোগ পাননি জেমাইমা। চূড়ান্ত ডিপ্রেশনে চলে দিয়েছিলেন। নিজেকে জাতীয় দলে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছিলেন এক অসম লড়াই। সঙ্গী ছিল বাইবেল। এই বিশ্বকাপে দলে সুযোগ পেয়েও শুরুটা ভাল হয়নি। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ০। সেখান থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ১২৭ নট আউট। তাঁর ব্যাটেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় অস্ট্রেলিয়ার।
সঞ্জু হোক বা জেমাইমা – দুজনের পারফরম্যান্স প্রমাণ করল, সুযোগের সদ্ব্যবহার কেমন করে করতে হয়। এরপরে কি সঞ্জুকে আর বাদ দেওয়ার কথা ভাববে ম্যানেজমেন্ট ? সদ্য সমাপ্ত অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও চলেছে জেমাইমার ব্যাট। দল হারলেও রানে ফিরেছেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি কাল সঞ্জুও যেন বুঝিয়ে দিলেন, সবুরে মেওয়া ফলে।