
কলকাতা: আমার ছেলের ১০টা বছর নষ্ট করে দিয়েছে ওরা। এই শব্দবন্ধনী এখন ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিধ্বনির মতো শোনাচ্ছে। যোগ্যতা থাকলেও সুযোগ মেলে না। নানা অছিলায় অপছন্দের কেউ বাদ পড়েন টিম থেকে। আবার পছন্দের কেউ হলে, ধারাবাহিক ব্যর্থতাও গুরুতর হয় না। ক্রিকেটের এই এক কলঙ্ক ফিরে ফিরে এসেছে। সেই দেশ স্বাধীন হওয়া থেকে এই গতকালের ক্রিকেট পর্যন্ত একই কারণে অভিযুক্ত। এ বার অভিযোগ তুললেন সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) বাবা। বিশ্বনাথ স্পষ্ট বলে দিলেন, তিন তারকা ক্রিকেটার এবং এক কোচের জন্য তাঁর ছেলের কেরিয়ারের সোনার সময়টা ধুয়ে মুছে গিয়েছে!
একাধিক ক্রিকেটারের নাম একটা সময় কানাঘুষো শোনা যেত। অমুকের পছন্দের ক্রিকেটার বলে, যাঁদের বার বার ভারতীয় টিমে দেখা যেত। যাঁদের ব্যর্থতার হিসেব কষা হত না। এই তালিকা হয়তো অনেক লম্বা হবে। যেমন লম্বা হবে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও টিমে সুযোগ না পাওয়া অথবা টিম থেকে বাদ পড়ে যাওয়া। সঞ্জুর বাবা সেই পুরনো ঘা-ই খুঁচিয়ে দিয়েছেন। বিশ্বনাথের অভিযোগের তিরে এক-আধ জন নন, ৪ জনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। যে ৪ জনের নাম তিনি করেছেন, গত ২০ বছর তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন ক্রিকেট। যে কারণে সঞ্জুর বাবার অভিযোগ বিস্ফোরণের আকার নিয়েছে।
কোন ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ? মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং বিশ্বকাপজয়ী, অত্যন্ত সম্মানীয় কোচ রাহুল দ্রাবিড়। বিশ্বনাথের মুখে এই চার জনের নাম শুনে ভারতীয় ক্রিকেট কার্যত নড়েচড়ে বসেছে। নিছকই কি অভিযোগ? নাকি এর ভিতরে অন্য যুক্তি আছে? সঞ্জুর কেরিয়ার দেখলে একটা জিনিস যে কেউ বুঝতে পারবেন, ভারতীয় টিমে তাঁর আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় পারফরম্যান্স গুরুত্ব পায়নি। এটাই কি মূল অভিযোগ বিশ্বনাথের? কী বলছেন তিনি?
বিশ্বনাথের কথায়, ‘তিন-চারজন আমার ছেলের ক্রিকেট কেরিয়ারের ১০টা বছর নষ্ট করে দিয়েছে। মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রাহুল দ্রাবিড়। এরা যতই ক্ষতি করুক, আমার ছেলে যখনই সুযোগ পাবে, কঠিন সময়ে এ ভাবেই ফিরে আসবে।’ বাংলাদেশ সিরিজ ও প্রোটিয়া সফরে সঞ্জু নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২টো সিরিজে ২টো সেঞ্চুরি করে। ঘটনা হল যে সমর্থন ধোনি, বিরাট, রোহিতের কাছে প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি, সেটাই পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবের কাছ থেকে। ভারতের নতুন টি-২০ ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ টি-২০ সিরিজের আগে সঞ্জুকে বলেছিলেন, ‘আগামী ৭টা ম্যাচে তুমিই ওপেন করবে।’
কথা রেখেছেন সূর্য। কথা রেখেছেন সঞ্জুও। তবে বিশ্বনাথের বিস্ফোরণ না হলে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের জন্মই হত না।