
কলকাতা : বৃহস্পতিবার কার্যত রক্তাক্ত হল দালাল স্ট্রিট। বাজার খুলতেই ৫০০ পয়েন্ট পড়ে যায় নিফটি। বুধবার বাজার একটু চাঙ্গা হলেও বৃহস্পতিবার ব্যাপক ধস নামে। বিশ্ব বাজারের অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ক্রমাগত যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার প্রভাবে সেনসেক্স ও নিফটি – দু’য়ের সূচকই নিচে নেমেছে। দুপুর ২টো নাগাদ সেনসেক্স ২০৮৬.৯২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৭৪,৬১৭.২১ অঙ্কে। অন্যদিকে নিফটি ৬৪৯.৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৩,১২৭.৯৫ অঙ্কে। বাজারের এই টালমাটাল অবস্থায় প্রায় ২,৯২৩টি শেয়ারের দাম কমেছে, প্রায় ৯২১টি শেয়ারের দাম বেড়েছে ও ১২২টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ এই ধস কেন ?
১. অপরিশোধিত তেলের দামবৃদ্ধি – বিশ্বে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.৭৭% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১১.৪ ডলারে পৌঁছেছে। সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল ভারত আমদানি করায় মুদ্রাস্ফীতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভরসা হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
২. শুধু ভারত নয়, বিশ্বের সব শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্য়তিক্রম নয় আমেরিকাও। কিন্তু ভারত থেকে ২৭১৪.৩৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
৩.বাজারের অস্থিরতা এতটাই, ইন্ডিয়া ভিক্স সূচক (volatility মাপার মানদন্ড) বলছে, ১৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ২১.৭২এ পৌঁছেছে । এর অর্থ, বাজারে selling panic তৈরি হয়েছে।
৪. আমেরিকান ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামীতে সুদ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদ বাড়লে ভারতে শেয়ার বেচে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকবে বিনিয়োগকারীরা।
৫. HDFC ব্যাঙ্কের পার্ট টাইম চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর আকস্মিক পদত্যাগের ফলে HDFC-র শেয়ার প্রায় ৯ শতাংশ পড়ে যায়। বিশ্লেষক অনুজ সিংলার মতে, এই পদত্যাগ ব্যাঙ্কের ‘কর্পোরেট গভর্নেন্স’ নিয়ে মানুষের মনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।
এছাড়া সবথেকে বেশি শেয়ার দরে ধস নামে ইন্টারনাল (Zomato) ও শ্রীরাম ফিন্যান্স সংস্থা। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, কোল ইন্ডিয়া একটু হলেও লাভের মুখ দেখেছে। নিফটি যদি ২৩,৭১১ র ঘরে পৌঁছে যায়, তাহলে আরো পতনের সম্ভাবনা করছে দালাল স্ট্রিট। সবশেষে বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ছিল ২,৪৯৬.৮৯ ও নিফটি পড়েছে ৭৭৫.৬৫। আপাতত বাজার স্থিতিশীল না হলে কোনও স্থানে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ করছেন বিশেষজ্ঞরা।