
কলকাতা: শহর থেকে এখনও শীত যায়নি। আবহাওয়া দফতর বলছে, এখনও কয়েক সপ্তাহ পারদ নিচেই থাকবে। এদিকে ইডেনের উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন শিমরন হেটমায়ার। শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ময়দানে যেসব কিশোররা ব্যাট ঘোরায়, তাঁদের মধ্যে কেউ কি হেটমায়ারকে পছন্দ করে ? বর্তমান জেন জ়ি প্রজন্ম বল মাঠে রাখার বদলে ওড়ানোতেই বিশ্বাসী। হেটমায়ার নিঃসন্দেহে সেই প্রজন্মের পছন্দের ব্যাটার হতে পারেন।
ছয় মেরে হাফ সেঞ্চুরির গণ্ডি ছুঁতেই আকাশের দিকে একবার তাকালেন। তারপর সেই উল্টো ব্যাট ধরে চিরাচরিত সেলিব্রেশন। গ্ৰুপ ‘সি’ এর প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ২২ বলে ৫০ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান ব্যাটার শিমরন হেটমায়ার। বাউন্ডারি মেরেছেন মাত্র দু’টো। ছ’টা বিশাল ছক্কা গ্যালারিতে সফল ল্যান্ডিং করেছে। স্ট্রাইক রেট ১৭৭.৭৭। যতক্ষণ তিনি ক্রিজে ছিলেন, আশা করা যাচ্ছিল হয়ত সহজেই ২০০ রানের গণ্ডি পার করে ফেলবে দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশায় জল ঢেলে দিলেন ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন । সাফিয়ান শরীফের ফুলটস বল দেখে লোভ সংবরণ করতে পারেননি হেটমায়ার। চেয়েছিলেন নিজের ইনিংসের সপ্তম ছক্কাটা ইডেনের গ্যালারিতে পাঠাতে। কিন্তু অনেকটা দূর থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন ব্রেন্ডন। শিমরন থামলেন ৬৪ রানের মাথায়। ইনিংসের মাঝে ম্যাচ কনফারেন্সে সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে হেটমায়ার বললেন,”আমি এবং পাওয়েল শুরু থেকেই কম ডট বল খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এমনিতেও সবাই জানে, আমরা বাউন্ডারি মারতেই বেশি পছন্দ করি। বাড়িতে স্ত্রী, জিমে ট্রেনার – এঁরাই আমাকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে অনুপ্রেরণা জোগান।” আইপিএলে রাজস্থানের হয়ে অতীতে ইডেনে খেলেছেন তিনি। সর্বোচ্চ রান ছিল তিরিশেরও কম। আজ প্রায় দশ হাজারি দর্শকের সামনে কলকাতায় নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করলেন ২৯ বছর বয়সী এই মারকুটে ব্যাটার। ভাঙলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবথেকে কম বলে অর্ধশতরান করার রেকর্ড। এর আগে সবথেকে কম বলে হাফ সেঞ্চুরি করার রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের। ২০০৯ সালের ওভালে সেদিন বিপক্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল।
এর আগে রোহিত শর্মা হোক বা সৌরভের ভারত – ইডেন গার্ডেন্স কাউকেই খালি হাতে ফেরায়নি। ১০ বছর আগে এই মাঠেই দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ দল। একই দিনে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পেয়েছিল তাদের মহিলা দলও। ইডেন যে সবাইকেই হাত ভরিয়ে দেয়, এই কথা ইনিংসের মাঝে প্রশ্ন করা সঞ্চালকের থেকে বেশি আর কেই বা জানে ? কারণ, তাঁর নাম যে কার্লোস ব্রেথওয়েট।