
কলকাতা : নিজেদের ভুলেই জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এসেছে বাংলা। আবার বাংলা দলের কপালে একরাশ হতাশা। রঞ্জির সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে দল। এর মধ্যেই দলকে নিয়ে কোনও ময়নাতদন্ত করতে চান নি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রানেই অল আউট হয়ে গিয়েছে দল। দুই ইনিংস মিলিয়ে একাই বাংলা ব্যাটিংয়ের স্তম্ভকে ধসিয়ে দিয়েছেন আকিব নবি। তাঁর বোলিংয়ের দাপটেই শেষ হয়ে গেছে বাংলার রঞ্জি স্বপ্ন। প্রথমবারের জন্য ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে জম্মু।
এই সিজনে সব ধরণের টুর্নামেন্টেই গ্রুপ পর্যায়ে বিদায় ঘটেছে বঙ্গ ব্রিগেডের। দলীপ ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফি বা রঞ্জি – তিন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলার ভাঁড়ার শূন্য। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় একপেশে লড়াই করেও সেমিতে দুর্ভাগ্যই সঙ্গী হয়েছে সুদীপদের। একমাত্র সুদীপ ঘরামী ছাড়া কোনও টপ অর্ডার ব্যাটার রান পান নি। কোয়ার্টার ফাইনালে ২৯৯ রানের পর সেমিফাইনালে খেলেছেন ১৪৬ রানের ইনিংস। তবুও যেভাবে চোখের সামনে ফাইনাল হাতছাড়া করেছে বাংলা, সবাই মনে করছেন এরপর সিএবি ম্যানেজমেন্টের বদল দরকার। এসবের মধ্যেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানালেন নিজের মত। তিনি বললেন,”মাত্র একটা ম্যাচ খারাপ খেলেই আমরা বিদায় নিয়েছি। ঘরের মাঠেই নক আউট খেলে আশা করছিলাম ভাল ফলের। স্রেফ একটা ভুলে সব শেষ হয়ে গেল। রঞ্জি ট্রফি জেতা সহজ নয়।” বাংলার পেস ইউনিট এই মুহর্তে দেশের সেরা। সামির সঙ্গে রয়েছেন মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপ। দুজনেই নিয়মিত জাতীয় দলে সুযোগ পান। সামির ক্ষেত্রেই বিষয়টা একটু আলাদা। জম্মুর বিরুদ্ধেই প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট পেয়েছিলেন সামি। তাও ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি তাঁর।
সমর্থকদের দাবি, কেন বাংলার ব্যাটাররা টানা ফ্লপ হচ্ছেন ? কেন স্রেফ সুদীপ ছাড়া কাউকে রানে দেখা যাচ্ছে না? অনুষ্টুপকে আর কতদিন বয়ে বেড়াবে বঙ্গ ব্রিগেড ? কয়েকদিন আগেই অশোক মালহোত্র বলেছিলেন,”কোথায় থামতে হয়, এবার ওর জানা উচিত।” কেন ৯৯ রানে অল আউট হতে হল দলকে ? কেন আকিব নবিকে একজনও বাংলা ব্যাটার খেলতে পারলেন না ? কেন দলের কোচ লক্ষ্মীর হাতে কোনও ‘প্ল্যান বি’ ছিল না ?
প্রশ্ন অনেক। লক্ষ্মীরতন শুক্ল, উত্তর কে দেবেন ? আপনি নাকি স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় ?