
কলকাতা : দু’বছর, দু’বছরে পরিস্থিতি কতটা বদলে যায় ! ২৯ জুন ২০২৪ বার্বাডোজে এমনই এক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছেই হেরে মাঠ ছেড়েছিলেন মিলার, ব্রেভিসরা। বিরাট-রোহিতদের সাফল্যে যখন গোটা ভারতে উৎসব, তখনই যেন হারের দুঃখে মাটিতে মিশে গিয়েছিলেন প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির আহমেদাবাদ। ফাইনালের বদলা সুপার এইটে। ব্যাটিং হোক বা বোলিং, দুই বিভাগেই ভারতকে ধরাশায়ী করে শোচনীয় হার উপহার দিল প্রোটিয়ারা। টানা ১২ ম্যাচ জেতার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের মুখ দেখলেন সূর্যরা। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ভারতকে শুধু ৭৬ রানেই হারাল না, রান রেটের দিক থেকেও পিছিয়ে দিল।
আহমেদাবাদে ভারতীয় সমর্থকদের মুখই বলে দিচ্ছিল ম্যাচের অবস্থা। ২ ওভারের মধ্যেই ২ উইকেট হারিয়ে ভারত তখন হারের আশঙ্কায় ভুগছে। যেন রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন জানসেন, রাবাডারা। গ্রুপ লিগে সুপারহিট ঈশান কিষান সাজঘরে ফিরেছেন ০ রানেই। ১ রানে আউট হয়ে ফিরলেন তিলক ভার্মাও। দেড় লাখি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে যেন পিনপতনের শব্দ শোনা যাবে। সেখান থেকে অসম্ভব লড়াই শুরু করার চেষ্টা করছিলেন অভিষেক শর্মা ও অধিনায়ক সূর্য। ওই যে বিধি বাম ! তিন ম্যাচে টানা শূন্য করে আজ রানের মুখ দেখেছিলেন অভিষেক। ১৫ রানের মাথায় আউট হয়ে দলের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিলেন তিনি। তখনই যেন লেখা হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য। এর আগে গ্ৰুপ লিগে ৪ ম্যাচেই ভারতীয় দল প্রথমে ব্যাটিং করেছিল। ফলে, শিশির নামক সমস্যার মোকাবিলা তাদের তেমন করতে হয়নি। আজ দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে ভারতের ‘বড় রান ‘ নামক আশাতে শুরুতেই জল ঢেলে দিল। অধিনায়ক আজকেও চললেন না। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোল ২২ বলে ১৮ রানের একটি ধীর ইনিংস। পাওয়ার প্লেতে ভারত তুলল মাত্র ৩১ রান। সেখানেই হয়ত ম্যাচ অর্ধেক বেরিয়ে গিয়েছিল সূর্যদের হাত থেকে। সুন্দর (১১) থেকে হার্দিক (১৮), কেউই ১৮৭ রানের লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে মানসিকভাবে তৈরী ছিলেন না। ৮৮ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে একসময় ১০০ রানও না তুলতে পারার আতঙ্কে ভুগতে শুরু করে ভারতীয় দল। ১৫তম ওভারে মহারাজের এক ওভারে ৩ উইকেট পড়তেই ভারত যেন কার্যত আইসিইউতে ঢুকে পড়ল। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন শিবম দুবে। তাঁর ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসের বদান্যতায় ভারত ১০০র গণ্ডি পেরোল। অবশেষে ১৯ তম ওভারে ভারতের বিজয়চাকা থামল ১১১ রানে। ৭৬ রানের বিশাল জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মার্কো জানসেন। ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেলেন কেশব মহারাজও। ম্যাচের সেরা ডেভিড মিলার।
২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের জয়রথ থেমেছিল এই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই। আবার আজও ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভাঙল এই স্টেডিয়ামেই। আজ বিকেলেই ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছে এক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। রাতে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারল আর এক আয়োজক দেশ ভারত। দুই আয়োজক দেশই ব্যাট করতে নেমে অল আউট হয়েছে আজ। আবার ২০১৬ ও ২০২৪, দুই বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় রানার্স হয়েছিল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
ক্রিকেট দেবতার স্ক্রিপ্ট…যেকোনও থ্রিলারকে হার মানাতে বাধ্য !