
কলকাতা : ২০০৯ সালে যা ঘটেছিল, তার পুনরাবৃত্তি কি আবার দেখা যেতে পারে? সে বারও গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় ঘটেছিল ক্যামেরন হোয়াইট, ব্রেট লি-দের। এ বারও একই অবস্থা হেড, স্মিথদের। আগের ম্যাচেই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হেরে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ বার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হেরে সুপার এইটের রাস্তা কঠিন করে ফেলল তারা। টিকে থাকার জন্য এখন অজিরা তাকিয়ে ওমান, জিম্বাবোয়ের দিকে। এই দুই দলের কেউ জিতলেই হলুদ জার্সির যাত্রা শেষ হয়ে যাবে।
গ্রুপ বি-র ম্যাচে ক্যান্ডিতে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা। টস জিতে অজিদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন দাসুন শনাকা। প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণ শুরু করেছিলেন হেড (৫৬) ও মার্শ (৫৪)। তাঁদের দাপটে এক সময় মনে হচ্ছিল, ২০০ রানের গণ্ডি হেসে-খেলে পার করে দেবে অস্ট্রেলিয়া। অথচ এরপরই যেন বিপর্যয়! হেড ফেরার পর নিয়মিত উইকেট হারাতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন থেকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২২)— সবাই ব্যর্থ। জস ইংলিস (২৭) চেষ্টা করলেও স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলতে ব্যর্থ। প্রায় পাখির মতো শূন্যে উড়ে ম্যাক্সওয়েলের ক্য়াচ ধরেন নিশঙ্কা। এই ক্য়াচ নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। ২০ ওভারে অজিরা তোলে ১৮১। ৩ উইকেট নিয়েছেন দুশান হেমন্থা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা দুই ওভার বাকি থাকতেই ১৮৪ রান তুলে জিতে যায়। ৫২ বলে দুরন্ত সেঞ্চুরি করেছেন পাথুম নিশঙ্কা। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিও এল তাঁর ব্যাটেই। যুগ্ম আয়োজক দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিততে যে মরিয়া লঙ্কানরা, তা বোঝাই যাচ্ছে। কুশল মেন্ডিসের অবদান ৫১।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন অঙ্কটা কী? অজিদের হারিয়ে এই ম্যাচে জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে পৌঁছে গেল শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবোয়ের বাকি দুটো ম্যাচ। আজ তারা নামবে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। আইরিশরা যদি হেরে যান, আজই তল্পি গোছাতে হবে হেড-মার্শদের। জিম্বাবোয়ের অন্য ম্যাচ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ওমান আবার খেলবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। ফলে, অঙ্কের খাতায় ক্ষীণ একটা সুযোগ আছে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য জিম্বাবোয়েকে পর পর দুটো ম্যাচ হারতে হবে।