অনিশ্চিত ম্যাচ, পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ শ্রীলঙ্কার!

বৃহস্পতিবার একটি দুই পাতার চিঠিতে পিসিবিকে শ্রীলঙ্কা অনুরোধ করেছে, ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত যেন পুনর্বিবেচনা করে দেখে পাকিস্তান। বিশ্বকাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক, নিরাপত্তাজনিত সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিপুল চাহিদার কারণে দ্রুত বিক্রি হয়ে গিয়েছে, যা এই দুই দলের সমর্থকদের এবং ক্রিকেটীয় স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ। তাদের আশঙ্কা, এই ম্যাচ না হলে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে শ্রীলঙ্কা বোর্ড।

অনিশ্চিত ম্যাচ, পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ শ্রীলঙ্কার!
Image Credit source: Sameera Peiris-ICC/ICC via Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Feb 06, 2026 | 3:32 PM

কলকাতা : বিশ্বকাপের বোধনে বাকি আর মাত্র চব্বিশ ঘন্টা। এখনও ভারত বনাম পাকিস্তান মহাযুদ্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা বেড়েই চলেছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই দলের। ইতিমধ্যেই সরকারি বিবৃতি দিয়ে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পাক বোর্ড। বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে, শেষ মুহূর্তে হয়ত ম্যাচ খেলতেও পারে তারা। গতবছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়েও একই নাটক করেছিল পাক বোর্ড। পরে আইসিসির পরামর্শ মেনে “হাইব্রিড মডেলে” ম্যাচ খেলতে রাজি হন বাবর আজমরা।

এসবের মধ্যেই পাকিস্তানকে নিজেদের সিদ্ধান্ত বদল করার পরামর্শ দিল শ্রীলঙ্কা বোর্ড। বৃহস্পতিবার একটি দুই পাতার চিঠিতে পিসিবিকে শ্রীলঙ্কা অনুরোধ করেছে, ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত যেন পুনর্বিবেচনা করে দেখে পাকিস্তান। বিশ্বকাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক, নিরাপত্তাজনিত সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিপুল চাহিদার কারণে দ্রুত বিক্রি হয়ে গিয়েছে, যা এই দুই দলের সমর্থকদের এবং ক্রিকেটীয় স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ। তাদের আশঙ্কা, এই ম্যাচ না হলে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে শ্রীলঙ্কা বোর্ড। এই ক্ষতির ফলে তাদের অর্থনৈতিক, আর্থিক, পর্যটন – সব ধরণের ব্যবসাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মুখ পুড়বে শ্রীলঙ্কার।

চিঠিতে ২০০৯ সালে ঘটে যাওয়া লাহোর জঙ্গি হামলার কথাও উল্লেখ করেছে এসএলসি। ২০০৯ সালের ৩ মার্চ, শ্রীলঙ্কার টিমবাসে আতঙ্কবাদী হামলা হয়। এই হামলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বেশ কিছু খেলোয়াড় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে নিজেদের সমস্ত ম্যাচ আয়োজন করা শুরু করে পাক বোর্ড। এই কঠিন সময়ে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছিল শ্রীলঙ্কা বোর্ড। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানে খেলতে গিয়েছিল। ফলে ১০ বছর পর পাকিস্তানে নিজেদের হোম ম্যাচ খেলেছিলেন শাহিদ আফ্রিদিরা।

শ্রীলঙ্কার দাবি, মানসিক অসুস্থতা সত্ত্বেও খেলার স্বার্থে পাকিস্তানে সফর করেছিল শ্রীলঙ্কা দল। কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার সহযোগিতা পাকিস্তানকে ক্রিকেটের মূল স্রোতে ফেরাতে সাহায্য করেছিল। সেই পাকিস্তানের কাছেই এবার সাহায্যপ্রার্থনা করেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের দাবি, পাকিস্তান যেন সমস্ত পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, “বন্ধু” বাংলাদেশের সমর্থনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

বিশ্বকাপের দামামা বেজে গিয়েছে। ভারত-পাক মহাযুদ্ধ হবে কিনা, জানতে পারা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা ।