
কলকাতা : দেওয়ালে পিঠ থেকে গেলে কিভাবে পাল্টা লড়াই করতে হয়, দেখাচ্ছে বাংলা। দুই লড়াকু ক্রিকেটারের সৌজন্যেই এই মুহূর্তে এগিয়ে অনুষ্টুপ মজুমদাররা। প্রথমজন, সুদীপ ঘরামী। ২৬ বছরের এই যুবক গতকাল নট আউট ছিলেন ১১২ রানে। আজ তাঁর ব্যাট থেকেও রানের ফুলঝুরি ছুটেছে। শেষ আপডেট অনুযায়ী, ১৭৮ রানে অপরাজিত ব্যাটিং করছেন সুদীপ। দ্বিতীয় জন, মুকেশ কুমার। তাঁর ৫ উইকেট প্রাপ্তি আটকে দিল বিপক্ষকে।
কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফির তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে বাংলা। প্রতিপক্ষ অন্ধ্রপ্রদেশ। গতকাল ২৯৫ রানে প্রথমে অল আউট হয়ে যায় অন্ধ্র। ৫ উইকেট নেন বোলার মুকেশ কুমার। কোচ লক্ষ্মীরতন বলেছিলেন, ৩০০ রানের আগেই আটকে দেবেন অন্ধ্রকে। সেই কাজটাই করে দেখাল বাংলা। রান বাড়িয়ে অন্ধ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করার দায়িত্ব ছিল বাংলার ব্যাটারদের উপরে। সেই আশা ব্যর্থ বাংলার ওপেনিং জুটির ব্যর্থতায়। নীতিশ রেড্ডির বলে মাত্র ১ রান করেই আউট হন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। কে শশীকান্তের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ডাগ আউটে ফেরেন আর এক ওপেনার সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। রান পাননি অনুষ্টুপও। মাত্র ৯ রান করেই আউট হন তিনিও। ৪৩-৩ থেকে লড়াই শুরু করেন সুদীপ ঘরামী। এর আগেই ত্রিপুরার বিরুদ্ধেও বড় রান পেয়েছিলেন তিনি। খেলেছিলেন ১০৮ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। গুজরাটের বিরুদ্ধেও দুই ইনিংসেই অর্ধশতক করেছেন সুদীপ। বিজয় হাজারে এবং সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে রানের খরা চলছিল তাঁর। লড়াই চালালেন সুমন্ত গুপ্তও। ৮১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেন সুমন্ত। আপাতত বাংলার স্কোর ৩৪২-৬। ক্রিজে রয়েছেন দলের উইকেটকিপার শাকির হাবিব গান্ধীও।
যতবার মাঠে দল বিপাকে পড়েছে, ত্রাতা হয়েছেন সুদীপ ঘরামী। তাঁর এই বড় রানের ইনিংস নিঃসন্দেহে রানের মগডালে তুলতে সাহায্য করবে বাংলাকে। অথচ ইতিহাস বলছে, এরপরেই সচরাচর পা হড়কানো শুরু হয় বাংলার। ২০২২ এ আশা জাগিয়েও সৌরাষ্ট্রের কাছে হেরে গিয়েছিল বঙ্গ ব্রিগেড। এবার যেন সেই ভুল না হয়, তাই নিশ্চিত করেছেন দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল।