
কলকাতা: মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হয়ে উঠেছেন বৈভব সূর্যবংশী। গত বছর আইপিএলে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর আর থামানো যাচ্ছে না। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপেও ছন্দে ছিলেন। ফাইনালে ব্যাট হাতে শিরোপা জিতিয়েছেন ভারতকে। ইতিহাস গড়েছেন নিজেও। তাঁর এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই সম্প্রতি দামি উপহার পেলেন বৈভব। খুদে তারকাকে নতুন গাড়ি তুলে দিল টাটা। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের করেন সূর্যবংশী। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা। মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি টুর্নামেন্টের দ্রুততম শতরান করেন। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জোরেই ভারত ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি জেতে।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সূর্যবংশীর ধারাবাহিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সাত ম্যাচে ৪৩৯ রান করেন তিনি। গড় ৬২.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৫০। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ৩০টি ছক্কাও আসে তাঁর ব্যাট থেকে। ফলে তাঁকেই নির্বাচিত করা হয় ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হিসেবে। তবে বিশ্বমঞ্চে আলোচনায় আসার আগেই গত বছরের আইপিএল নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। তিনি রাজস্থান রয়্য়ালসের হয়ে খেলতে নেমে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান। এটি ছিল তাঁর আইপিএলের দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান। কোনও ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১০ সালে ইউসুফ পাঠান ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
১৪ বছর ৩২ দিন বয়সে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ শতরানকারী ব্যাটার হন সূর্যবংশী। তিনি ভেঙে দেন মণীশ পাণ্ডের রেকর্ড। যিনি ২০০৯ সালে ১৯ বছর ২৫৩ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন। আইপিএলে গত মরসুমে ৭ ম্যাচে ২৫২ রান করেন সূর্যবংশী। গড় ৩৬ এবং স্ট্রাইক রেট ২০৬.৫৬। এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি জেতেন ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার। তার জন্যই বৈভবকে উপহার দেওয়া হয় টাটা কার্ভ। জানা গিয়েছে, টপ মডেলের এই গাড়ির দাম ২২ লক্ষ টাকারও বেশি। ক্রিকেট বিশ্বে এখন একটাই প্রশ্ন। এই তরুন ক্রিকেটার ভারতীয় সিনিয়র দলে কবে অভিষেক করবেন? আবার বর্তমান ফর্ম দেখে অনেকেই বলছেন, সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।