
কলকাতা : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসছে এই বিশ্বকাপের আসর। একদিকে যেমন ঘরের মাঠে ট্রফি জিততে মরিয়া ভারতীয় দল, অন্যদিকে বাকি দলগুলিরও লক্ষ্য বাজিমাত করার। আগামী শুক্রবার প্রতিযোগিতায় মাঠে নামতে চলেছে ভারত। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলছেন ভারতের তরুণ তুর্কি অভিষেক শর্মা। এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের ক্রমতালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী যুবরাজ সিংহের এই ছাত্র। ঈশান কিষানের সাম্প্রতিক ফর্ম দেখেই আন্দাজ করা যায়, বিশ্বকাপে অভিষেকের ওপেনিং পার্টনার হতে চলেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয়ের সহজ তত্ত্ব, শুরুতেই এত দ্রুত রান তুলে ফেল প্রতিপক্ষ যেন চাপে পড়ে যায়। তাই কুড়ি-বিশের খেলায় ওপেনারদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। বিস্ফোরক ওপেনিং জুটির নিরিখে কিন্তু এই বিশ্বকাপে অনেক দলই গোলা-গুলি চালাতে নামবে। খুনখারাপি ব্যাটিংয়ের দিক থেকে কিন্তু ভারতের সঙ্গে অনেকেই লড়াইয়ে থাকবে। ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্তানের হয়ে নিমিত ওপেন করছেন ইব্রাহিম জাদরান এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ভালো ইনিংস শুরু করছেন এইডেন মার্কর্যাম এবং কুইন্টন ডি’কক। অস্ট্রেলিয়ার হয়েও লড়াই করতে তৈরি তাদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড এবং মিচেল মার্শ। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে ফিল সল্ট এবং জস বাটলার— এমন দুই নাম যাঁরা নিজেদের দিনে বিপক্ষকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেন। এই দু’জনই আইপিএলে পরিচিত মুখ। ফিল সল্ট ২০২৪ ও ২০২৫, দুই বছরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে জস বাটলার ২০২২ সালে আইপিএলে ১৭ ম্যাচে ৮৬৩ রান করেন। যার মধ্যে ছিল ৪টি সেঞ্চুরি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৩ ইনিংসে ওপেন করে এই জুটির ব্যাটে এসেছে ১,১৩২ রান। ওভার প্রতি রান এসেছে প্রায় ১১। এই জুটিকে এই মুহূর্তে বলা হচ্ছে, টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে শক্তিশালী জুটি। কয়েক মাস আগেও এই দু’জন একসঙ্গে ওপেন করবেন কি না, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল ক্রিকেট মহলে। যদিও ২০১০ সালের পর ২০২২ সালে আবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হিসেবে দেশকে প্রায় ১২ বছর পর ট্রফি দেন বাটলার। কিন্তু, ২০২৪ বিশ্বকাপের পর সেই অর্থে বাটলারকে ওপেন করতে দেখা যায়নি। সল্টের সঙ্গে ইনিংস শুরু করার দায়িত্বে ছিলেন বেন ডাকেট এবং উইল জ্যাক্স।
ইংল্যান্ডের হয়ে বাটলার এবং সল্টের একটি বিধংসী ইনিংসের পরেই তাঁদের বিশ্বকাপ জয়ের মূল বাজি হিসেবে ধরা শুরু হয়। কয়েক মাস আগে ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টারে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড তোলে ৩০০ রান। সল্ট ৬০ বলে ১৪১ রানের একটি ইনিংস খেলেন, বাটলার করেন ৩০ বলে ৮৩ রানের মারকুটে ইনিংস। এর ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বার কোন দেশ ৩০০ রানের গন্ডি পার করে, যা একটি রেকর্ড।
গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড, নেপাল ও ইতালির বিরুদ্ধে খেলবে ইংল্যান্ড। শীর্ষ দুইয়ে থাকলে সুপার এইটের ম্যাচগুলো হবে শ্রীলঙ্কায়। আর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠলে খেলতে হবে ভারতে। যেখানে আইপিএলের সুবাদে সল্ট ও বাটলার দু’জনই যথেষ্ট অভিজ্ঞ। কিন্তু বাঁ হাতি পেসারের ইনসুইং খেলতে বারবার সমস্যায় পড়েন সল্ট। যে তথ্য মাথায় রাখবে বিপক্ষ।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেখলে, এই সময়ে ভারতই টি-টোয়েন্টি তে সবথেকে শক্তিশালী দল। যদি চূড়ান্ত পর্বে ভারত ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় , তাহলে কি ২০২২ সালের বিশ্বকাপের মত আবার অঘটন ঘটাতে পারবেন বাটলাররা ? সাড়ে তিন বছর পর আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে তাঁদের ওপরেই বাজি ধরছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।