
কলকাতা: ভারতের বি টিমই কি মাঠে নেমেছিল? জার্সি দেখে বোঝা মুশকিল। যাঁরা মাঠে নেমেছিলেন, তাঁদের দেখে ভারতীয় বলে ভুল হতেই পারে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে যেন একপ্রকার ঘরেই ফিরলেন আরব আমিরশাহী ও কানাডার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা। গ্ৰুপ ডির ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং কানাডা। আরবের ওপেনার আরিয়াংশ শর্মার ব্যাটে ভর করে কানাডাকে ৫ উইকেটে হারাল আমিরশাহী।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। ২৮ বলে ৩৪ রান করে রান আউট হয়ে যান নভনীত ঢালিওয়াল। অর্ধশতরান করেছেন হর্ষ থাকের। ৪১ বলে তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ঝকঝকে ৫০ রানের ইনিংস। প্রধানত, তাঁর জন্যেই নির্ধারিত ২০ ওভারে দেড়শো পার করেছে কানাডা। এই দু’জন ছাড়া পুরো ব্যাটিং লাইন আপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অধিনায়ক তো বটেই, লোয়ার অর্ডারেও কেউ কার্যত রান পাননি। ৫ উইকেট নিয়েছেন আরবের মিডিয়াম পেসার জুনেইদ সিদ্দিকী। মাত্র ১৫০ রান তুলতে সক্ষম হয় কানাডা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে আরব। কানাডার ঘাতক বোলিংয়ের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আরিয়াংশ শর্মা এবং শোহেব খান। ৫৩ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন আরিয়াংশ। কানাডার সাদ বিন জাফর ১৪ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিলেও সেটি ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। ২৯ বলে অর্ধশতরান করে আউট হয়ে যান শোহেব। দলের জয়ের জন্য সেই সময়ে প্রয়োজন ৫ বলে ২ রান। আউট না হলে এই দুই জুটিই ম্যাচ শেষ করে আসতে পারতেন।
এই বিশ্বকাপ যেন শুরু থেকেই চমক দেখাচ্ছে। প্রথম ম্যাচেই প্রায় পাকিস্তানকে হারিয়ে দিচ্ছিল নেদারল্যান্ডস। টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থ ভারতের মিডল অর্ডার। ১০ উইকেটে ইতালি হারিয়েছে নেপালকে। নেপাল আবার লড়াই করে শেষ বলে হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। আজ আবার ২০০৭ সালের পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল জিম্বাবোয়ে। এই বিশ্বকাপ যেন বারবার মনে করাচ্ছে, ক্রিকেট এখন আর শুধুই ‘বড়’দের নয়।