
কলকাতা: ২০২৪ সালে অক্ষর প্যাটেল যখন বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে তোলেন, তাঁর কথায় ছিল গভীর আক্ষেপ। তিনি বলেছিলেন, “আপনারা তো জানেন, প্রতি বিশ্বকাপের আগেই আমি চোট পাই।” ওই কথায় হাসি থাকলেও বাস্তবতা ছিল নির্মম। ২০২৩ সালে ওয়ান ডে বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে ম্য়াচ মিস করা এখনও তাঁর কাছে দগদগে স্মৃতি। সেই কষ্ট যেমন তিনি জানেন, তেমনই জানেন তাঁর কাছের মানুষজন, বন্ধুবান্ধবরা। যেমন কেভাল প্যাটেল। অক্ষরের ছেলেবেলার বন্ধু। সেই কেভাল বলছেন, অক্ষরের চোট মানেই পরিবারের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি হওয়া। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পাওয়ার পর কেভাল ফের বলেছেন, সামনে বিশ্বকাপ লম্বা লড়াই। ২০২৩ সালের হতাশার পর ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সব মিলিয়ে অক্ষরের ফিরে আসা ছিল স্বপ্নের মতো। কেভাল চান, ছেলেবেলার বন্ধুকে যেন আবার হতাশ না হতে হয়।
২ বছর আগে অক্ষরের জীবনে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাবা হন তিনি। ছোট প্যাটেল এখন পুরো পরিবারের প্রাণকেন্দ্র। বাবা অক্ষর এখন সময় কাটান বাচ্চার সঙ্গে খেলে। আসন্ন বিশ্বকাপে বাবার খেলা দেখবে অক্ষরের ছেলে। এটাই তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত। মাঠে অক্ষর বরাবরই নীরব খেলোয়াড়। নিজের কাজটা মন দিয়ে করে যান। ব্যাটে-বলে তাঁর অনেক অবদান থাকলেও আলোটা প্রায়ই পড়ে অন্যদের উপর। অথচ তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্য়াপ্টেন। দলের ডিরেক্টর ভেনুগোপাল রাওয়ের মতে, ‘অক্ষরের ম্যাচ নেতৃত্বের ক্ষমতা আছে। তাই অনেকদিন ধরেই নজরে ছিল।’
২০১৩-১৪ মরসুমে রঞ্জি ট্রফিতে ছয় উইকেট নেওয়া তরুণ অক্ষর আজ দেশের ম্যাচের উইনার। পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর। কিন্তু সারল্য থেকে গিয়েছে একই রকম। বন্ধু কেভালের ভাষায়, “মাঠের বাইরে আজও আগের মতো অক্ষর।” যে ক্রিকেটার বছরের পর বছর রবীন্দ্র জাডেজার ছায়ায় থেকেছেন, ইনজুরিতে মিস করেছেন বড় মঞ্চ, সেই অক্ষরই আজ ভারতের অপরিহার্য ক্রিকেটার। এ বারের বিশ্বকাপ অক্ষরের কাছে শুধু দলের জন্য় নয়, গ্যালারিতে থাকা ‘ছোট প্যাটেল’ এর জন্য়ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।