
কলকাতা : চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল মোহনবাগান প্রথম ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে কেরালাকে। আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে নর্থইস্টকে হারিয়েই শুরু করতে চান লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। প্রতিবারই তাঁদের নিয়ে চরম প্রত্যাশা থাকে সমর্থকদের মধ্যে। তবে প্রতিযোগিতা শেষের দিকে এগিয়ে এলেই আবার নিরাশা ঘিরে ধরে তাঁদের। এবারেও আইএসএলে ভাল ফলের আশায় রয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। গত মরশুমে কার্লেস কুয়াদ্রাতের চলে যাওয়ার পরেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন অস্কার। প্রথম ম্যাচেই কলকাতা ডার্বির মতো ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর পরীক্ষা। হেরে গেলেও সমর্থকদের পাশে পেয়েছিলেন তিনি।
পরের দিকে দলের ব্যর্থতার জন্য কার্লেসকেই দায়ী করেছিলেন অস্কার। বলেছিলেন,ব্যর্থতার দায় তাঁর নয়। এবছর গল্পটা আলাদা। শুরু থেকেই দলের সঙ্গে রয়েছেন অস্কার। নিজের পছন্দমত বিদেশী খেলোয়াড় পেয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, “আমি ও থাংবোই সিংটো রাত জেগে দলগঠন করেছি। ফলে আমরা আশা করছি, এবার ভাল ফল হবে।” প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে চোট আঘাত ভাবাচ্ছে অক্ষরকে। আগেই চোটের কারণে বাইরে ছিলেন নাওরেম মহেশ ও মহম্মদ রাকিপ। কেভিন সিবিলে দলে নেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের জন্য। এবার তালিকায় নতুন নাম সাউল ক্রেসপো। ব্যর্থ হয়ে দল থেকে সরে গেছেন জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি। তাঁর বদলে দলে এসেছেন ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিদেশী ইউসুফ এজ্জেজারি। প্রথম ম্যাচ থেকেই জয়ের সরণীতে ফিরতে চান অস্কার। অস্কার জানেন, ইস্টবেঙ্গল ঐতিহ্যশালী ক্লাব। ট্রফি না জিতলে কোনও গুরুত্ব নেই। তাই তিনি সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ করছেন।
এই বছর নির্ধারিত সময়ের থেকে ৫ মাস দেরিতে শুরু হয়েছে আইএসএল। অন্যবারের মতো এই বছর লাল-হলুদ দলের বাজেট নিয়ে কোনও অসুবিধে হয়নি। আগে থেকেই প্র্যাকটিসের মধ্যে রয়েছে দল। ভাল দল গঠনের কারণে এই বছর ইস্টবেঙ্গল দলকেও চ্যাম্পিয়ন দাবীদার ভাবছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। কয়েকদিন আগেই মাঠ নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে নিখরচায় যুবভারতী পায় ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেডের অবস্থা আরও খারাপ। ভারতীয় ফুটবলের ঝামেলার চক্করে দল ছেড়ে ইন্দোনেশিয়ার দলে চলে গিয়েছেন আলাদিন আজারাই। এই খবর স্বস্তি দেবে অস্কারকে। সব মিলিয়ে, প্রথম ম্যাচে নেমেই জিততে চায় ইস্টবেঙ্গল।