সুশোভন মুখোপাধ্যায়
ডুরান্ড কাপে ইতিহাস মোহনবাগানের। টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল দল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। এ বারের আগে দু-দলেরই ট্রফি সংখ্যা ছিল ১৬টি করে। ডুরান্ডে ১৭তম ট্রফি জিতল সবুজ মেরুন। উচ্ছ্বাসের নানা কারণ রয়েছে। মরসুমের প্রথম ডার্বি হারের বদলা নিয়ে ১৭তম ডুরান্ড ট্রফি। শেষ ৩৮ মিনিট ১০ জনে খেলেও ডার্বি জয় এবং চ্যাম্পিয়ন। আর কী চাই! কিন্তু মোহনবাগানের লক্ষ্য শুধু এই ম্যাচ জেতা কিংবা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়। তাদের সামনে এএফসি কাপের ম্যাচ রয়েছে। সেই টুর্নামেন্টই পাখির চোখ। সঙ্গে অবশ্যই আইএসএলে চ্যাম্পিয়নের খেতাব ধরে রাখা। বিস্তারিত জেনে নিন TV9Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
মোহনবাগান কার্যত সেট টিম ধরে রেখেছিল এ মরসুমে। দলকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন বেশ কয়েকজন প্লেয়ারকে সই করানো হয়েছে। মোহনবাগানের ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা যেন প্রত্যাশিতই। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। মরসুমের প্রথম ডার্বি হেরেছিল সবুজ মেরুন। টানা আটটি ডার্বি জয়ের পর হার। সমর্থকদের খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগানের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে একটা ব্যানার দেখা যেত, ‘এই মাঠেই বদলা নেব’। সমর্থকদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে দল। গোল করেই গ্যালারির দিকে দৌড়ে গিয়েছিলেন পেত্রাতোস। তাঁর উচ্ছ্বাসে পরিষ্কার ধরা পড়েছে, কতটা মরিয়া ছিলেন এই ম্যাচ জিততে। পেত্রাতোস ম্যাচ শেষে বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। এই গোল এবং জয় সমর্থকদের জন্য।’
মোহনবাগানের জয় এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়াতেও যেন কিছু প্রশ্ন থাকল। তাদের নতুন বিদেশিরা কতটা তৈরি? অনিরুদ্ধ থাপা কিংবা সাহাল আব্দুল সামাদের মতো জাতীয় দলের তরুণরা দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছেন কি? এএফসির মতো টুর্নামেন্ট জিততে হলে আরও ভালো ফুটবল প্রয়োজন। সেই জায়গায় কি পৌঁছেছে মোহনবাগান? বিশ্বকাপার জেসন কামিন্সকে নিয়ে প্রচুর প্রত্যাশা। গোল করলেও সেই অনুযায়ী প্রত্য়াশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁর অধিকাংশ গোলই পেনাল্টি থেকে। আর্মান্দো সাদিকু সেমিফাইনালে গোল করে জেতালেও চাপের মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারছেন না। এমন অনেক প্রশ্নেরই যেন উত্তর খুঁজছেন হুয়ান ফেরান্দো।