
কলকাতা : শেষ কবে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা ? ভাবতে বসলে অযথা সময় ব্যয় হবে। তবে নতুন আইএসএলের মরসুম শুরু হওয়ার পর যে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটেছে, তা বলাই বাহুল্য। তাঁদের আনন্দের মূলে আসলে ২ জন। এক, স্প্যানিশ গোলমেশিন ইউসুফ ইজ্জেজারি ও দুই, ব্রাজিলীয় মিগুয়েল ফেরেইরা। যেভাবে দুই ম্যাচেই এই দুই ফুটবলার ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য খুশির বন্যা বয়ে আনছেন, তাতে খেতাব জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন লাল-হলুদ ভক্তরা।
আইএসএলের দুই ম্যাচেই ৩ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতল অস্কার ব্রুজোর দল। প্রথম ম্যাচে নর্থইস্টের বিরুদ্ধে ৩-০ এবং গতকাল স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে ৪-১। যদিও শনি সন্ধ্যের যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গলকে চিন্তায় ফেলবে তাদের রক্ষণ। এদিন অগাস্টিন লালরোচনার গোলে তিন মিনিটেই এগিয়ে যায় দিল্লি। যুবভারতীর হাজার বিশেক সমর্থক তখন হতভম্ব ! ইস্টবেঙ্গলের সেই এগিয়ে গিয়েও ম্যাচ মাঠেই ফেলে আসার রোগ কি আবার ফিরল ? তবে গোল খাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ালেন তাঁরা। বিপিন সিংয়ের ফ্রি কিক হেড করে বিপন্মুক্ত করার চেষ্টায় বক্সের বাইরে বল পান এডমন্ড লালরিন্দিকা। তাঁর জোরালো ভলিতেই সমতা ফেরায় লাল হলুদ। দিল্লির গোলরক্ষক বিশাল যাদবের হাতে বল লেগে জড়িয়ে যায় জালে। ম্যাচের ১২ মিনিটেই ২-১ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে এডমন্ডকে ফাউল করেন ক্লেরেন্স ফার্নান্দেজ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেন নি ইজ্জেজারি। ৪০ মিনিটে মিগুয়েলের পাস থেকেই ইজ্জেজারির ৩-১। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল দিল্লি। মনোজ মহম্মদ যথেষ্ট বেগ দিচ্ছিলেন লাল হলুদ ডিফেন্সকে। তাঁর একটি শট শূন্যে উড়ে বাঁচালেন প্রভসুখন গিল। নব্বই মিনিটের মাথায় বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে ৪-১ করে দিল্লির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতলেন মিগুয়েল।
এই আইএসএল যেন সত্যিই সৌভাগ্য নিয়ে এসেছে লাল-হলুদ সংসারে। আইএসএলের ইতিহাসে কোনওদিন প্রথম ম্যাচ জিতে শুরু করেনি লাল-হলুদ। সেই দুরবস্থা থেকে এবার টানা জয়ের হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে অস্কার ব্রিগেড। টানা ব্যর্থতার জেরে প্রায় অস্তিত্ব ভুলতে বসা ভাগ্যবদলের চেষ্টায় এবার পাশে দুই বিদেশী। তাঁদের পায়ের জাদুতেই যেন খুশি ফিরেছে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। গতকাল ইস্টবেঙ্গলের গোলের সময় উন্মাদনায় ফেটে পড়েছিলেন বেশ কিছু স্প্যানিশ সমর্থক। হবে নাই বা কেন ? ইস্টবেঙ্গল বা স্পেন, দুই পতাকার রংই যে লাল-হলুদ !