ISL Final: বদলার ম্যাচ নয়… আইএসএল ফাইনালের আগেও হাবাস একই রকম কুল!
Mohun Bagan: মুম্বই টিম হিসেবে বেশ ভালো। এই যুবভারতীতেই লিগ শিল্ড জিতেছে সবুজ-মেরুন। তবু প্রতিপক্ষ টিমের ভারসাম্য, আগ্রাসন, তাগিদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। শনিবারও তাই যে তুলে ধরার চেষ্টা করবে মুম্বই, ভালোই জানেন। আর তাই আইএসএল ফাইনালের আগে সেই চেনা হাবাসকেই দেখা যাচ্ছে। হিমশীতল গলা।

কলকাতা: বদলার ম্যাচ? বিশ্বাস করেন না তিনি। কয়েক দিন আগেই জিতেছেন লিগ শিল্ড। তাও গলায় উত্তেজনা নেই। প্রতিপক্ষকে হেলাফেলা করা নেই। উল্টে মুম্বই সিটি এফসির প্রতি সমীহই তুলে ধরছেন। ৩ বছর আগে মুম্বইয়ের কাছে আইএসএল ফাইনালে হেরে গিয়েছিল মোহনবাগান। তাও কি বদলার ম্যাচ নয়? প্রশ্ন শুনে মৃদু হাসলেন তিনি। তুরন্ত জবাবও এল, ‘এই শব্দটা অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে। আমার কাছে কোনও ম্যাচই বদলার নয়। রোজ একটা নতুন দিন। এটাই ফুটবল। এ ভাবেই দেখি ফুটবলকে। আমরা চাই, কালকের ফাইনাল জিততে। যাতে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে পারি।’
মুম্বই টিম হিসেবে বেশ ভালো। এই যুবভারতীতেই লিগ শিল্ড জিতেছে সবুজ-মেরুন। তবু প্রতিপক্ষ টিমের ভারসাম্য, আগ্রাসন, তাগিদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। শনিবারও তাই যে তুলে ধরার চেষ্টা করবে মুম্বই, ভালোই জানেন। আর তাই আইএসএল ফাইনালের আগে সেই চেনা হাবাসকেই দেখা যাচ্ছে। হিমশীতল গলা। ভীষণ কুল। যেন মাঠে নামার আগে ফাইনাল নিয়ে ভাবতেই নারাজ তিনি। লিগ শিল্ডে যেমন ফেভারিট কেউ ছিল না, আইএসএল ফাইনালেও মোহনবাগান কিংবা মুম্বইকে ফেভারিট বলা যাবে না। হাবাস স্পষ্ট ভাষায় শুক্রবার দুপুরে প্রেস কনফারেন্স রুমে বসে বলে গেলেন, ‘ফাইনালে কেউ ফেভারিট হয় না। ফাইনাল সবসময় ৫০-৫০। প্রতিটা ম্যাচ আলাদা। আমাদের ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।’
মুম্বই-মোহনবাগানের আইএসএল ফাইনাল আসলে এল ক্লাসিকো। দুটো টিম মোট ২৫বার মুখোমুখি হয়েছে। সবুজ-মেরুন ব্রিগেড জিতেছে ৭বার। মুম্বইয়ের ঝুলিতে ১১ জয়। ৭টা ম্যাচ ড্র। শেষ দেখায় লিগ শিল্ডের ম্যাচে ২-১ জিতেছিল হাবাসের মোহনবাগান। প্রতিপক্ষ নিয়ে হাবাস বলে গেলেন, ”বেঙ্গালুরু, কেরল, ওড়িশার মতো টিমগুলো রয়েছে। কাউকে অসম্মানিত করতে চাই না। এটাও ঘটনা যে, মুম্বই খুব শক্তিশালী দল।’ ফাইনালের জন্য কী ভাবনা নিয়ে এগোতে চাইছেন হাবাস? ‘কেউ চায়না ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে। এই গরমের মধ্যে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গেলে ফুটবলারদেরও কষ্ট। তাই নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শেষ করতে চাই।’
পুরো টিমই হাতে রয়েছে হাবাসের। শুধু সাদিকু সাসপেন্ড থাকায় খেলতে পারছেন না। হুগো বোমাসকে সরিয়ে কাউকো নেওয়াই কি এই মরসুমের টার্নিং পয়েন্ট? হাবাসের উত্তর, ‘আমার সিদ্ধান্ত ক্লিক করেছে। ওই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া উচিত। সবাই ভালো প্লেয়ার। সবার মধ্যেই ফুটবলারসুলভ গুণ আছে।’
হাবাস এমনই। টিমকে আগলে রাখেন। জয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত নন কখনওই। হার নিয়েও মাথা ঘামান না বিশেষ। শুধু ফোকাস রাখেন পরিকল্পনায়। কঠিন সময়ে মোহনবাগানের দায়িত্ব নিয়েও একই করে গিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। আর একটা ম্যাচ হাতে। আইএসএল ফাইনালেও হাবাস একই রকম ভাবনা নিয়ে নামবেন মাঠে। ট্রফির সুখ কি আবার পাবে সবুজ-মেরুন?
