
মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট : ২ (ম্যাকলারেন, আলড্রেড) : কেরালা ব্লাস্টার্স : ০
কলকাতা : ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল যুবভারতী। যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই যেন শুরু হল নতুন অধ্যায়। কয়েক মাস আগেই লিওনেল মেসির কলকাতা আগমন নিয়ে খণ্ডযুদ্ধ দেখেছে এই যুবভারতীর গ্যালারি। সেই সফর নিয়ে একপ্রকার শ্মশানের রূপ নিয়েছিল যুবভারতীর গ্যালারি। মেসি আমেরিকা ফিরে গেলেও টিকিটের টাকা এখনও ফেরত পান নি সাধারণ মানুষ। একপ্রকার আশঙ্কাতে ছিল মাঠ কমিটি, যে আদৌ আইএসএল ফিরলে কলকাতায় ফুটবল ফিরবে তো ? প্রেম দিবসে কলকাতার দর্শকরা যেন বুঝিয়ে দিলেন, প্রিয় দল মাঠে ফিরলেই মাঠ ভরাতে রাজি তাঁরা।
অনেক টালবাহানার পর অবশেষে আজ শুরু হল আইএসএল। এই বছর লিগ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হবে। নক আউট না হয়ে শীর্ষে থাকা দলকেই চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই বছর থেকেই শুরু হচ্ছে অবনমনও। টেবিলের শেষ দল অবনমিত হয়ে নেমে যাবে দ্বিতীয় ডিভিশনে। এদিন সল্টলেকে ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন দুই কোচ সার্জিও লোবেরা ও ডেভিড ক্যাটালা। বাগানের হয়ে শুরু করেছিলেন দুই অজি ফুটবলার জেমি ম্যাকলারেন ও বাগানের ‘নয়নের মণি’ দিমি। শুরু থেকেই আক্রমণের ফুল ফোটাতে শুরু করে মোহনবাগান। ১৪ মিনিটের মাথায় দূরপাল্লার শট মেরে গোলে বল ঢোকাতে ব্যর্থ হন দিমি। তারপর থেকেই যেন একতরফা গোল মিস করার প্রতিযোগিতা শুরু করেন দিমি, ম্যাকলারেন এবং রবসন রবিনহো। প্রথমার্ধেই বাগানের বল পজেশন ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। বাগানের একচেটিয়া আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলেছিল কেরালা। ৩৫ মিনিটে দিমির পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে একজনকে কাটিয়ে গোলে ঠেলে দেন জেমি। ২৫ হাজারি যুবভারতীকে দেখে তখন মনে হচ্ছে বোকা জুনিয়র্সের উদ্বেলিত গ্যালারি। ৩ মিনিট পরেই রবসনের জোরালো শট প্রতিহত করেন কেরালা গোলরক্ষক সচিন সুরেশ। দ্বিতীয়ার্ধে যেন কেরালার ফুটবলারদের লক্ষ্য ছিল বাগান খেলোয়াড়দের পা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বাগান খেলোয়াড়দের আক্রমণ শুরু করেন কেরলের খেলোয়াড়রা। এর ফলে বক্সে ঢুকলেও কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছিল মোহনবাগান। বাগানের একের পর এক শট আটকে দিচ্ছিলেন সচিন। কেরলের কেভিন ইয়কে বেশ কয়েকবার বাগান বক্সে ঢুকলেও তাঁকে প্রত্যেকবারই প্রতিহত করেছেন আলবার্তোরা। ৯৪ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার ফ্রি কিক দিয়ে ভাসানো বল হেডে জালে জড়িয়ে দেন টম আলড্রেড। এর ফলেই কেরলকে ২-০ হারিয়ে আইএসএল সফর শুরু করল মোহনবাগান।
মানুষ সব ভুলে যায় ! কয়েক মাস আগে, ইরানে খেলতে যেতে চায়নি মোহনবাগান দলের খেলোয়াড়রা। প্র্যাকটিস থেকে বেরোনোর সময় খেলোয়াড়দের একপ্রকার ঘিরে ধরেছিলেন সমর্থকরা। সবারই আবদার ছিল, দল যেন এএফসির ম্যাচ খেলতে যায়। দল কথা রাখেনি। ইরান না যাওয়ার দরুণ বাগান দলকে এক বছরের জন্য ব্যান করেছে এএফসি। সেই নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ফ্যানক্লাবরা চূড়ান্ত সমালোচনা করেছিল প্রত্যেক খেলোয়াড়কে। সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন দিমি পেত্ৰাতস। তাঁর উপরেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সমর্থকেরা। সাফল্য আসেনি ডুরান্ডেও। ডার্বিতে হার, ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন না হতে পারা – সব দায় নিয়ে সরে গিয়েছিলেন বাগান কোচ হোসে মোলিনা। ফলে পাহাড়প্রমাণ চাপের সামনে আজ বাগান কোচের ভূমিকায় অভিষেক হল লোবেরার। যে সমর্থকরা ইরান না যাওয়ার কারণে সমালোচনা করেছিলেন দিমি-জেমির, আজ গোলের পর তাঁরা গ্যালারির দিকে ছুটে যেতেই সেই সমর্থকেরাই যেন আনন্দে জড়িয়ে ধরতে চাইলেন নিজেদের ভালোবাসার নায়কদের। ওই যে…মানুষ সব ভুলে যায়!