
কলকাতা : সদ্য শুরু হয়েছে জাপানের ঘরোয়া ফুটবল জে লিগের নতুন মরসুম। এই ২০২৬ মরসুম নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চায় এশিয়ার এই অন্যতম ফুটবল লিগ। এই বছর লিগে বেশ কিছু যুগান্তকারী নিয়মের পরিবর্তন এনেছে জাপান ফুটবল সংস্থা। সমর্থকরা বলছেন, এই নতুন নিয়মগুলির ফলে বিশ্বে আরও পরিচিতি পাবে জাপান ফুটবল। শুধু তাই নয়, ফুটবলকে জাপান নতুন এক দিশা দেখাতে চলেছে। ফুটবল এ বার থেকে আরও রোমাঞ্চকর এবং উপভোগ্য হতে চলেছে।
১৯৯২ সালে পথ চলা শুরু হয় জে লিগের। এই বছর এই প্রতিযোগিতার নাম ‘জে ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার ভিশন লিগ।’ এই নামের অর্থ, ১৯৯২ সাল থেকে আগামী ১০০ বছর, অর্থাৎ ২০৯২ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ জাপান দেশে মোট ১০০টি ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। সে জন্য আধুনিক ফুটবলের পরিচিতি এবং লিগের বিশ্বায়নের কথা মাথায় রেখে প্রতিযোগিতার বেশ কতগুলি নিয়ম পরিবর্তন করেছে জাপান। ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়ার বদলে আগস্ট মাসে শুরু হয়ে মে মাস অবধি চলবে এই লিগ। এর ফলে, ট্রান্সফার উইন্ডোর দিক থেকেও সুবিধা পাবে ক্লাবগুলি। এ ছাড়াও, ২০২৬ মরসুম থেকে প্রতি দলে ৬জন বিদেশি খেলোয়াড় থাকলেও প্রথম একাদশে থাকবে মাত্র ৪ জন। প্রতিটা দলেই ১জন এশিয়ান খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক। এর ফলে এশিয়ান ফুটবলের আরও বিকাশ হবে। এমনই আশা কর্মকর্তাদের।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত নিয়ে। বিশ্বের সর্বত্রই প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্যায়ে ৯০ মিনিট অবধি স্কোরলাইন সমান থাকলে ম্যাচটি ‘ড্র’ বলে ধরা হয়। নক আউট পর্যায়ে দুটি অর্ধে আরও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট অর্থাৎ মোট ১২০ মিনিট খেলা হয়। এরপরেও স্কোর সমান থাকলে টাইব্রেকার হয়। কিন্তু জাপান এতদিনের প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে দিতে চলেছে। এই মরসুমে ড্র বলে কিছুই থাকছে না জে লিগে। ৯০ মিনিট অবধি দুই দলের স্কোর সমান থাকলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলার বদলে সরাসরি টাইব্রেকার খেলতে হবে দুটি দলকে। এই টাইব্রেকারের মাধ্যমেই জয়ী হবে একটি দল। এই নিয়মের ফলে একদিকে টানটান হবে ম্যাচ। তেমনই জাপানের প্রতিযোগিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। যদি ৯০ মিনিটে একটি দল জয়ী হয়, তারা পাবে ৩ পয়েন্ট। বিজিত দল পয়েন্ট পাবে না। টাইব্রেকারে জয়ী দল পাবে ২ পয়েন্ট। সে ক্ষেত্রে বিজিত দলের কপালে জুটবে ১ পয়েন্ট। এই নিয়ম প্রকাশ পেতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলেও। এর আগে কোপা আমেরিকার নকআউটে এক্সট্রা টাইমের বদলে সরাসরি টাইব্রেকার দেখা গিয়েছে। কোনও দেশের ফুটবল লিগে এমন অভিনব নিয়ম সর্বপ্রথম।
সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৮ এবং ২০২২ – দুই বিশ্বকাপেই পরপর শেষ ষোলোয় সুযোগ পেয়েছে জাপান। শেষবার তারা হারিয়েছিল জার্মানির মতো হেভিওয়েট দলকে। শিনজি কাগাওয়া থেকে সানসুকে নাকামুরা – ইউরোপীয় ফুটবলসমাজ এর আগে দেখেছে জাপানের এই দুই ফুটবল নায়ককে। এই নতুন নিয়মের ফলে আরও বেশি মানুষ জে লিগের ভক্ত হবেন এবং অদূর ভবিষ্যতে জাপান থেকে বিশ্ব ফুটবলে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবেন – এমনই আশায় বুক বাঁধছেন ফুটবলপ্রেমীরা।