এটাই হয়তো শেষ সুযোগ… জন্মদিনে বিশ্বকাপের স্বপ্নে একাকার রোনাল্ডো ও নেইমার!

এই বছর আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডাতে বসতে চলেছে বিশ্বকাপের আসর। এ বছর পর্তুগাল রয়েছে গ্ৰুপ কে-তে। এর আগে একবারও বিশ্বকাপ জেতেনি পর্তুগাল। কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সিআর সেভেন। সেই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। নিজের ফুটবল কেরিয়ারে প্রায় সব ট্রফি জিতলেও অধরা রয়েছে বিশ্বকাপ। নিজের কেরিয়ারের সূর্যাস্তে সেই ট্রফি জিততে মরিয়া রোনাল্ডো।

এটাই হয়তো শেষ সুযোগ... জন্মদিনে বিশ্বকাপের স্বপ্নে একাকার রোনাল্ডো ও নেইমার!
Image Credit source: PTI , Marco Buenavista/Sports Press Photo/Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Feb 05, 2026 | 4:11 PM

কলকাতা : মাঠে হোক বা মাঠের বাইরে, সর্বদা চর্চায় থাকেন সিআর সেভেন। তাঁর পোশাক, ফিটনেস, ট্রেনিং নিয়ে মেতে থাকেন তাঁর ভক্তরা। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। আজ অর্থাৎ ৫ই ফেব্রুয়ারি ৪১এ পা দিলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। সাম্প্রতিক সময়েও চর্চায় রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ করিম বেঞ্জেমার আল হিলালে যোগ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, আল হিলাল দলগঠনে যত টাকা খরচ করছে, তাঁর ক্লাব আল নাসের সেই অর্থের সিকিভাগও খরচ করেনি।

শুধু রোনাল্ডো নন, আজ জন্মদিন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারেরও। ৩৪এ পা দিলেন তিনি। জীবনের আর একটা ক্যালেন্ডার পাল্টানোর মুহূর্তে তাঁর স্বপ্ন কী হতে পারে? অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলা। কেরিয়ারের শুরুটা চমকপ্রদ হলেও বার্সেলোনা ছাড়ার পর ধীরে ধীরে হারিয়ে গিয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে। ১১২ ম্যাচে করেছেন ৮৫ গোল। কিন্তু দলকে ইউরোপ সেরা করতে ব্যর্থ হন নেইমার। এরপরে রোনাল্ডোর মতো সৌদিকে বেছে নেন নেইমার। আল হিলালে সই করলেও চোট আঘাতে জর্জরিত হয়ে ম্যাচ টাইমই দিতে পাননি তিনি। তাঁর কেরিয়ারে চোটই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে শিরদাঁড়ায় ভয়ানক চোট পেয়ে কয়েক মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন নেইমার। ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে তুললেও ২০২২ সালে প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন।

৫ ফেব্রুয়ারি তাই চর্চায় চলে এসেছেন দুই পর্তুগিজ ফুটবলার। নেইমার চোটকে অতীত করে ব্রাজিলের জাতীয় দলে আবার ফিরবেন? রোনাল্ডো কি পর্তুগালের হয়ে শেষবার খেলতে নেমে বিশ্বকাপ জিতবেন?

এ সব আলোচনার মধ্যেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন সিআর সেভেন। এই বছর আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডাতে বসতে চলেছে বিশ্বকাপের আসর। এ বছর পর্তুগাল রয়েছে গ্ৰুপ কে-তে। এর আগে একবারও বিশ্বকাপ জেতেনি পর্তুগাল। কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সিআর সেভেন। সেই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। নিজের ফুটবল কেরিয়ারে প্রায় সব ট্রফি জিতলেও অধরা রয়েছে বিশ্বকাপ। নিজের কেরিয়ারের সূর্যাস্তে সেই ট্রফি জিততে মরিয়া রোনাল্ডো। তাঁর চির প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ২০২২ সালেই বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের খরা কাটিয়েছেন। এটাই রোনাল্ডোর মতো তারকাকে উদ্বুদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট।

নেইমারকে নিয়ে গল্পটা অন্য। রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি বর্তমানে ব্রাজিল দলের দায়িত্বে। দলে ভিনিসিয়াস, রাফিনহা, ক্যাসেমিরো, ম্যাথিউ কুনহা, রিচাৰ্লিসনের মতো তারকারা থাকলেও নেইমারের না থাকা ভোগাবে তাঁকে। সাম্প্রতিক সময়ে আবার নিজের পুরোনো ক্লাব স্যান্টোসে ফিরেছেন নেইমার। সেখানেও চোটে জর্জরিত তিনি। জাতীয় কোচ চাইছেন বিশ্বকাপ শুরুর আগে নেইমারের ৯০ থেকে ১০০% ফিট পেতে।

বহুদিন বিশ্বকাপের মুখ দেখেনি ব্রাজিল। কোনও দিন ফাইনালেও জায়গা হয়নি পর্তুগালের। দুই দেশের দুই তারকাই নিজের দেশকে চূড়ান্ত সাফল্য দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। হয়ত শেষ বারের মতো বিশ্বকাপে নিজের দেশের জার্সি গায়ে নামবেন রোনাল্ডো। এই মুহূর্তে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৯৬০এরও বেশি। বিশ্বকাপের বাকি এখনো চার মাস। যদি বিশ্বকাপ জয় করার সাথে সাথেই ১০০০ গোল করার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন রোনাল্ডো, তাহলে সোনায় সোহাগা অবস্থা হবে তাঁর বিশ্বব্যাপী ভক্তদের জন্য।