
কলকাতা: ভারতের ক্রীড়ার ইতিহাসে যুক্ত হল আরও একটি গর্বের অধ্যায়। এশিয়ান ইন্ডোর অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ হেপ্টাথলনে ভারতের হয়ে সোনা জিতলেন তেজস্বীন শঙ্কর। তিয়ানজিন স্টেডিয়ামে তাঁর এই অসাধারন সাফল্যের পর বেজে উঠল ভারতের জাতীয় সঙ্গীত। নিজের জাতীয় রেকর্ড ভেঙে সোনা আনলেন ভারতের অ্যাথলিট। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে আবারও তিনি গর্বিত করলেন গোটা দেশকে। তেজস্বীন শঙ্কর মোট ৫৯৯৩ পয়েন্ট করে, ভারতের হয়ে রেকর্ড গড়েন। মাত্র ৭ পয়েন্টের জন্য তিনি ৬০০০ পয়েন্টের মাইলফলক ছুঁতে পারেননি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্কোর বিশ্ব স্তরের অ্যাথলেটিক্সদেরকে পর্যায়ে পড়ে। ভারতীয় হেপ্টাথলনের ইতিহাসে এমন পারফরম্যান্স আগে কখনও দেখা যায়নি।
হেপ্টাথলন ইভেন্টে সাতটি আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতা থাকে। ৬০ মিটার দৌড়, লংজাম্প, শটপাট, হাইজাম্প, ৬০ মিটার হার্ডলস, পোল ভল্ট এবং ১০০০ মিটার দৌড়। প্রতিটি ইভেন্টেই দক্ষতা ও শক্তির প্রয়োজন হয়। তেজস্বীন সাতটি ইভেন্টেই খুবই ভালো পারফর্ম করেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মেন্স হাইজাম্পের জাতীয় রেকর্ডও। প্রতিটি ইভেন্টেই চাপ ছিল প্রবল। কিন্তু শান্ত মাথায় নিজের ইভেন্টে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তেজস্বীন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস হারাননি তিনি। ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসে ডেকাথলনে রূপো পেয়েছিলেন শঙ্কর।
এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি পদক জয় নয়। এটি ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের শক্তি। তিয়ানজিনে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বাজার সেই মুহূর্ত, ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তেজস্বীন শঙ্কর আবারও প্রমাণ করে দিলেন যে, ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সরাও বিশ্বের সেরা অ্যাথলেটিক্সদেরকে পাল্লা দিতে পারে। এশিয়ান ইন্ডোর থেকে আরও চারটি পদক এসেছে। হাইজাম্পে রূপো পূজার, শটপাটে রুপো তেজিন্দর সিং টুরের, লংজাম্পে ব্রোঞ্জ অ্যান্সি সোজানের। হাইজাম্পে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন আদর্শ রাম জ্যোতির।