
কলকাতা: তাঁর পদবীতে জড়িয়ে রয়েছে ‘ম্যাড’ শব্দটা। আক্ষরিক অর্থেই তিনি যে খেলা পাগল, তাতে আর সন্দেহ কী! ছিলেন হকি প্লেয়ার। যে সময় খেলা ছেড়ে প্রাক্তন হওয়ার কথা, তখন আবার তিনি আর এক খেলায় মাতলেন। শুধু কি মাতলেন, বিশ্বকাপে নেমে তাক লাগাতে চলেছেন সারা বিশ্বকে। খেলাধুলার ইতিহাসে এমন প্লেয়ারের গল্প খুব কম শোনা যায়। সেই বিরল তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন ইতালির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার ওয়েন ম্যাডসেন। যিনি আবার দলের অধিনায়কও।
২০ বছর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় হয়ে নেমেছিলেন হকি বিশ্বকাপ খেলতে। সেই ম্যাডসেনই আবার ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন। দুটি আলাদা খেলায়, দুটি আলাদা দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার গল্প খুব বেশি শোনা যায় না। এই কীর্তি তাঁকে খেলাধুলোর ইতিহাসে কিংবদন্তি করে তুলেছে। ২০০৬ সালের হকি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছিলেন তরুণ ওয়েন ম্যাডসেন। তখন তাঁর হাতে ছিল হকি স্টিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে তাঁর জীবন ও খেলাধুলার পথ। হকি থেকে ক্রিকেটে পা রেখেছেন ম্যাডসেন। গড়ে তুলেছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার। এখন ৪২ বছর বয়সে তিনি প্রস্তুত বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জের জন্য ক্রিকেট ব্যাট হাতে।
ম্যাডসেন শুধুমাত্র একজন ডুয়েল প্লেয়ারই নন, যথেষ্ট সফলও। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর ম্যাচের সংখ্যা ২১৯ এর বেশি। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টিতে তিনি খেলেছেন ১৭৭টি ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তাঁর ২টি সেঞ্চুরি ও ২৫টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে। ইতালির হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর মাত্র ৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই তিনি করেছেন ২০৫ রান। সঙ্গে রয়েছে দুটি হাফসেঞ্চুরি। এ ছাড়াও পিএসএল, দ্য হান্ড্রেড ও এসএ২০ এর মতো বিভিন্ন লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ইতালি দলও তৈরি। চেন্নাইয়ে ২ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিরুদ্ধে ওয়ার্মআপ ম্যাচে ১০ রানের জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে দলটির। ব্যাট হাতে ম্যাডসেন ওই ম্যাচে বড় রান না পেলেও নেতৃত্বে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বোলারদের দৃঢ় পারফরম্যান্সেই জয় নিশ্চিত করে ইতালি। গ্রুপ ‘সি’তে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড ও নেপালের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে রয়েছে ইতালি। কাজটা সহজ না হলেও, অভিজ্ঞ এক অধিনায়কের নেতৃত্ব, ইতালির যে বড় চমক হতে পারে তা আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
৯ ফেব্রুয়ারি স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক হবে আজুরির। অভিষেক হবে ওয়েন ম্যাডসেনও। এ ছাড়া তাঁদের গ্রুপে রয়েছে হেভিওয়েট ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রয়েছে নেপালও। ম্যাডসেন নিজে তো বটেই, তাঁর দলও যাতে ছাপ রাখতে পারে বিশ্বকাপে, তার জন্য় মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে।