
কলকাতা : ডব্লিউপিএল ফাইনালে আজ ভদোদরায় মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও দিল্লি ক্যাপিটালস। এই নিয়ে টানা চারবার ফাইনালে উঠলেন শেফালি ভার্মারা। অন্যদিকে ২০২৪ সালের পর আবার ফাইনাল খেলবেন স্মৃতি মন্ধানা ও তাঁর দল। দুই দলের অধিনায়ক স্মৃতি ও জেমাইমা এমনিতে অভিন্নহৃদয় বন্ধু। কয়েক মাস আগে স্মৃতির বিয়ে ভেঙে যায়। বন্ধুর পাশে থাকতে বিগ ব্যাশ লিগের লোভনীয় অফার ছেড়ে দেন জেমাইমা। কঠিন সময়ে স্মৃতির পাশে ছিলেন প্রতিটা মুহূর্তে। তাঁর এই পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটমহলে।
এর আগে ২০২৪ সালের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি এবং আরসিবি। সেই ম্যাচে দিল্লিকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম বার ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় আরসিবি। সোফি ডিভাইন এবং এলিসে পেরির ব্যাটেই এসেছিল জয়। দিল্লি এর আগে লিগ পর্যায় থেকে সরাসরি ফাইনাল খেললেও এই প্রথম এলিমিনেটর জিতে ফাইনালে উঠেছে। এর আগের প্রতিটি মরসুমেই যে দল এলিমিনেটর জিতেছে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই তথ্য স্বস্তি দেবে দিল্লিকে। যদিও আরসিবির থেকে যথেষ্ট কঠিন রাস্তা পেরিয়ে ফাইনালে উঠেছে দিল্লি। মঙ্গলবার এলিমিনেটরে ২৩ বলে ৪১ রান করেন জেমাইমা। যা দলকে ফাইনালে তুলতে প্রধান ভূমিকা নেয়।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে শেষ ম্যাচ খেলেছে আরসিবি। এরপর গোয়াতে ছুটি কাটাতে যায় দল। কেউ নাচে-গানে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। কেউ বা সানবাথ নিয়ে ফাইনালের জন্য চাঙ্গা রেখেছিলেন নিজেকে। অধিনায়ক স্মৃতির মতে, এই ছুটি দলের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। পুরো টিম চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে। ফ্রেশ হয়ে ফাইনালে মাঠে নামবেন তাঁরা। লড়াই কঠিন জানেন। খুব ভালো করে জানেন, বন্ধু জেমাইমার দলের বিরুদ্ধে খেলা সহজ হবে না। তবে স্মৃতি সব লড়াই সামলানোর জন্য তৈরি।
এর আগে ফাইনাল খেললেও ট্রফি জোটেনি দিল্লির। প্রত্যেক বারই পরাস্ত হতে হয়েছে দলকে। এ বার নিঃসন্দেহে দলের এই দুর্ভাগ্য ঘোচাতে মরিয়া জেমাইমা। ফটোসেশনে স্মৃতি ও জেমাইমা দুই বন্ধুকেই হাসি মুখে দেখা গেলেও আজ ভদোদরায় ফাইনালে ট্রফির যুদ্ধে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। কে জিতবেন ট্রফি, কার মুখে ফুটবে শেষ হাসি? স্মৃতি না জেমাইমা— উত্তর মিলবে আজ রাতেই।