
কলকাতা: কেউ তাঁকে বলেন, আন্ডাররেটেড! বাংলায় তর্জমা করলে যা দাঁড়ায়, ঠিক মতো মূল্যায়ন হয়নি!
কেউ তাঁকে বলেন, মোস্ট ডিপেন্ডেবল! ভরসার মুখ! বিপদে সবচেয়ে বড় বন্ধু!
কারও কারও কাছে বিস্ময়েরও। টেস্টে ওপেন করেন। ওয়ান ডে-তে মিডল অর্ডারে। দুই বিপরীত ধর্মী ক্রিকেটরকে তিনি মিলিয়ে দিতে জানেন। তাই টেস্টে সেঞ্চুরি করেন যেমন, ওয়ান ডে-তেও। মিলিয়ে দিতে জানেন অবলীলায়। তুমুল পরীক্ষার পরেও।
ওপেনার, মিডল অর্ডার ব্যাটার, কিপার, ক্যাপ্টেন অথবা ভাইস ক্যাপ্টেন— যে ভাবেই ভাবা হোক না কেন, লোকেশ রাহুল সবসময় প্রাসঙ্গিক। যে কোনও ফর্মে, যে কোনও মোডে সফল। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা ফিরুন ২৪ কিংবা ২৩এ, শ্রেয়স আইয়ার, রবীন্দ্র জাডেজা ৮ অথবা ২৭ করুন, দল চাপে পড়লে, দরকার হলে ঠিক রান এনে দেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে রাজকোট সেই ‘ক্রাইসিস-ম্যান’ রাহুলের সাক্ষী রইল। শ্রেয়স আউট হওয়ার পর নেমেছিলেন ক্রিজে। ২১.৩ ওভার পেরিয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। উল্টো দিকে উৎসাহ বেড়েছে। এ দিকে চাপ। সে সব সামলে নট আউট ১১২ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে গেলেন রাহুল। ৯২ বল, ১১টা চার ও ১টা ছয় দিয়ে কেএল বুঝিয়ে দিলেন, ফর্ম্যাট কিংবা ব্যাটিং নম্বর গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে পারে সে একেও পারে, পাঁচেও পারে!
২০১৭ সাল থেকে ধরলে ৫ নম্বর ব্যাটার হিসেবে সব মিলিয়ে খেললেন ৩৩টা ইনিংস। মোট রান ১৪৭৭। গড় ৬৪.২১। স্ট্রাইকরেট ৯৯.৮৯। সেঞ্চুরি ৩টে। হাফসেঞ্চুরি ১০টা। ৯২টা ওয়ান ডে কেরিয়ারে ৮টা সেঞ্চুরি। রাহুল এ দিনের ইনিংস সাজাতে গিয়ে আগ্রাসী পথই বেছেছিলেন। ক্যাপ্টেন শুভমন গিল ৫৬ করে ফেরার পর দায়িত্ব নিয়েছিলেন দলের। ১১৫-৩ থেকে দলকে পৌঁছে দিয়েছেন লড়াই করার মতো জায়গায়। তার থেকেও বড় কথা হল, উল্টো দিকে জাডেজা, নীতীশ রেড্ডি যতই থাকুন, দ্রুত রান তোলা থেকে বিপক্ষের বোলারদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন রাহুল।
তাঁর সেঞ্চুরি দেখে কে কী বললেন? মুশকিল হল, কিছু ইনিংসের পর প্রতিক্রিয়া জানার দরকার পড়ে না। রাহুলের সুযোগ না-দেওয়া ইনিংস যে আরও একবার আচ্ছন্ন করে ফেলল ক্রিকেট দুনিয়াকে!