Novak Djokovic: ২৫তম জন্মদিনের অপেক্ষা? নোভাকে অবাক বিশ্ব!
World Tennis: ম্যাচের কিছু ঝলক এখনও চোখে লেগে রয়েছে। ১৬টা ব্রেক পয়েন্ট সেভ করলেন। হার দিয়ে সেমিফাইনালটা শুরু করেছিলেন জোকার। ৩-৬এ ভয়ঙ্কর সিনার। নোভাক কোণঠাসা। ঠান্ডা মাথায় ভাবছেন, ম্যাচে ফিরতে হলে লড়াই রাখতে হবে কোর্টে। পরের সেটেই উল্টে দিলেন স্কোর বোর্ড। ৬-৩এ এবার ১-১ জোকারের।

কলকাতা: রোহিত শর্মার বয়স কত? এমন প্রশ্নের উত্তরে ভক্তরা বলবেন, আইসিসি ট্রফিই দেবে শর্মাজির তারুণ্যের হিসেব। বিরাট কোহলির বয়স কত? জানতে চাইলে ক্রিকেট মহল পাল্টা বলবে, সেঞ্চুরির সংখ্যা জানেন তো? বয়স আসলে সংখ্যা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বয়স কত? ৪১য়েও হাজার গোলের খিদে থাকে কি করে? কখনও লিয়েন্ডার পেজ দেখিয়েছেন। কখনও রোহন বোপান্না। এখন শেখাচ্ছেন নোভাক জকোভিচ! খাতায় কলমে ৩৮ হলেও আসলে ২৪। ২৫তম জন্মদিনের ঠিক একধাপ আগে দাঁড়িয়ে! প্লেয়ারের বয়স তো তাঁর সাফল্যে। জোকারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে কেন? নোভাকে অবাক বিশ্ব!
তিনি যে জিতবেন, সেটা কিছুটা আশ্চর্যের মনে হতেই পারে। কেন? টানা ১০টা সেট এর আগে হেরেছেন জানিক সিনারের কাছে। যাঁকে হারালেন, তিনি জোকারের থেকে ১৪ বছরের ছোট। বিশ্বের দু’নম্বর প্লেয়ার। ৫ ঘণ্টার লড়াই হাঁটুর বয়সী ছেলের সঙ্গে এ ভাবেও জেতা যায়! ওপেন এরা তাঁর নামের পাশে ‘বুড়ো’ তকমা বসিয়ে দিক, তাতেই বা ক্ষতি কী! বুড়ো হাড় এখনও ভেল্কি দেখাতে জানে। গত কয়েক বছর ধরেই অপেক্ষায় রয়েছে টেনিস দুনিয়া, কোয়ার্টার সেঞ্চুরি দেখবে বলে। ওপেন এরায় এমনটা আর কেউ পারেননি। সার্বিয়ান কবে করবেন? খেতাবের কাছে যান, ফিরে আসেন। মুঠো শক্ত হয়। কিন্তু অধরা থেকে যায় খেতাব। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠে সেই তাঁকেই কাঁদতে দেখল দুনিয়া। সরল স্বীকারোক্তিও করলেন, ‘সিনার আমার বিরুদ্ধে গত পাঁচটা ম্যাচ জিতেছে। আমি জানতাম, জিততে হলে আমাকে এ ভাবেই খেলতে হবে। জিতে ওকে ধন্যবাদ জানিয়েছি, এই ক’বছরে আমাকে অন্তত একটা জয় পেতে দেওয়ার জন্য।’
ম্যাচের কিছু ঝলক এখনও চোখে লেগে রয়েছে। ১৬টা ব্রেক পয়েন্ট সেভ করলেন। হার দিয়ে সেমিফাইনালটা শুরু করেছিলেন জোকার। ৩-৬এ ভয়ঙ্কর সিনার। নোভাক কোণঠাসা। ঠান্ডা মাথায় ভাবছেন, ম্যাচে ফিরতে হলে লড়াই রাখতে হবে কোর্টে। পরের সেটেই উল্টে দিলেন স্কোর বোর্ড। ৬-৩এ এবার ১-১ জোকারের। খেলাটা ওখান থেকেই যেন শুরু হল। সিনার আগ্রাসী। জকোভিচ অভিজ্ঞ। সিনার এক-একটা সার্ভ আছড়ে পড়ছে কোর্টে। জোকার কখনও ফেরাচ্ছে, কখনও পয়েন্ট দিচ্ছেন তরুণ প্রতিপক্ষকে। তৃতীয় সেটটা আবার খোয়ালেন। মিস্টার নাম্বার ফোর তবু ফাঁক খোঁজার চেষ্টা চালালেন। পেলেন চতুর্থ সেটে। জিতলেন ৬-৪। পঞ্চম সেটে নামার আগে তিন ঘণ্টা কাটিয়ে ফেলেছেন কোর্টে। ক্লান্তি, বয়স আর চোট— তিন প্রিয় বন্ধু জোকারকে তখন কী বলেছিল?
গ্রেটেস্ট অফ অল টাইমের বন্ধনীতে যাঁরা পা রাখেন, তাঁর মাথার কাছে মাথা নত করেন না। মনের দরজা খোলেন। পিছিয়ে পড়ে ফিরে আসা। সার্ভিস ভেঙে মনোবল গুড়িয়ে দেওয়া বিপক্ষের। শেষ পর্যন্ত শেষ পয়েন্টটার খেলা। একটু শর্ট সার্ভিস…। ব়্যালি…! সিনার ফেরাতে পারলেন না জোকারের জবাব! আলকারাস সাবধান! ফাইনালে জোকার আছেন!
