Dhupguri: ২ হাজার টাকা বাকি ভাড়া! তাতে জীবনটাই দিয়ে দিতে হল ভাড়াটিয়াকে
Jalpaiguri: অভিযোগ, ঝন্টুর পরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হননি বাড়ির মালিক অমর দে। উল্টে তিনি পুরো টাকা চান। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে চরম অপমানও করা হয়। এমনকি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় বলেও পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর ঘরে ফিরলেও মুষড়ে পড়েছিলেন ঝন্টু।

ধূপগুড়ি: বাড়ি ভাড়া নিয়ে অপমানের অভিযোগ। তাতেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল ভাড়াটিয়া। তাতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে। ধূপগুড়ি পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা ঝন্টু দাস (৫৮)। পেশায় টোটো চালক ঝন্টু দেশবন্ধু পাড়ায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে দেশবন্ধু পাড়ার বাসিন্দা অমর দে-র বাড়িতে মাসিক ৪ হাজার টাকা চুক্তিতে একটি ঘর ভাড়া নেন তিনি। ওই বাড়িতেই তিনি তাঁর ছেলে সৌরভ দাস, পুত্রবধূ শিখা দাস এবং দুই নাতিকে নিয়ে থাকতেন।
পরিবারের দাবি, ঘর ভাড়ার ৪ হাজার টাকা তো ছিলই সঙ্গে টোটো চার্জ বাবদ আরও অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। চলতি মাসের ২৭ তারিখ ভাড়া দেওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও আর্থিক অনটনের কারণে বিপাকে পড়েছিলেন। সম্পূর্ণ টাকা তিনি জোগাড় করতে পারেননি। আপাতত ৪ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা মিটিয়ে দিতে আরও কয়েকদিন সময় চেয়েছিলেন বলে জানাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তারমধ্যেই যে এত বড় ঘটনা ঘটে যাবে তা ভাবতেই পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ, ঝন্টুর পরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হননি বাড়ির মালিক অমর দে। উল্টে তিনি পুরো টাকা চান। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে চরম অপমানও করা হয়। এমনকি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় বলেও পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর ঘরে ফিরলেও মুষড়ে পড়েছিলেন ঝন্টু। ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ চলতি মাসের ২৮ তারিখ ঝন্টু দাস কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি।
