Commonwealth Games 2026 : বাজেট বেড়ে ৩৫ হাজার কোটি! কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন থেকে সরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া
হঠাৎ করে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে আসায় প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছে কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশন। তিন বছর হাতে সময় থাকলেও নতুন কোনও দেশের পক্ষে আয়োজন করার জন্য যথেষ্ট নয়।

সিডনি: শুরুতে যখন বাজেট দেওয়া হয়েছিল, তখন ছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু তাই বাড়তে বাড়তে ছুঁয়েছে আকাশ। সারা বিশ্বে যখন মন্দা চলছে, তখন আগামী কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করার জন্য় খরচ পড়ছে ৩৪ হাজার কোটিরও বেশি। যা মোটেও খরচ করতে রাজি নয় আয়োজক দেশ। তাই আগামী কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games) হবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস হওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায়। হঠাৎ করে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে আসায় প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছে কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশন। তিন বছর হাতে সময় থাকলেও নতুন কোনও দেশের পক্ষে আয়োজন করার জন্য যথেষ্ট নয়। পরের সিডব্লিউজি হবে কিনা, বলা মুশকিল কমনওয়েলথ ফেডারেশনের কর্তাদের পক্ষে। বিস্তারিত জেনে নিন TV9 Bangla Sports এর এই প্রতিবেদনে।
ভিক্টোরিয়ার প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষ আধিকারিক ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস বলেছেন, ‘বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত অনেক সময় নিতে হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই নিতে হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কখনওই সহজ ছিল না। প্রথমে যে বাজেট দেওয়া হয়েছিল, তার তিনগুণ এখন খরচ করতে হবে। কিন্তু সোজা কথা হল, কোনও অবস্থাতেই ৭ বিলিয়ন ডলার আমাদের পক্ষে খরচ করা সম্ভব নয়। আর আমরা করছিও না। হাসপাতাল, স্কুলের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিয়ে এত বড় ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব নয়। এটা আমরা কমনওয়েলথ ফেডারেশনকে জানিয়েও দিয়েছিল।’
২০২৬ সালের ভিক্টোরিয়া কমনওয়েলথ গেমসে ২০টা খেলায় ২৬টা বিভাগ রয়েছে। অন্তত ৫ হাজার অ্যাথলিট নামবেন এই সিডব্লিউজিতে। সব মিলিয়ে পাঁচটা সেন্টার ঘিরে এই গেমস আয়োজন করার কথা। কিন্তু বিপুল খরচের কথা ভেবেই আয়োজন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছে তারা। পাঁচ সেন্টার কমিয়ে এক বা দুই সেন্টারে করা, খেলার সংখ্যা কমিয়ে আনা কিংবা মেলবোর্নে গেমস সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা, সে দিক নিয়েও ভাবা হয়েছে। যা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন সরকারি কর্তারা।
কমনওয়েলথ ফেডারেশন কিন্তু ভিক্টোরিয়ার এই সিদ্ধান্তে ব্যাপক চটেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাত্র ৮ ঘণ্টার নোটিশে হঠাৎই গেমস আয়োজন করা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করতে পারতাম। কোনও একটা রাস্তা নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসত।’
মাত্র ১৪ মাস আগে গেমস আয়োজন করার দায়িত্ব পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সিডব্লিউজি যাতে আরও ব্যাপক ভাবে আয়োজন করা যায়, অনেক বেশি খেলাকে জোড়া যায়, সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছিল। এ সব করতে গিয়েই খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, এমনও বলা হচ্ছে। হঠাৎৎ করে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি কি সামাল দেওয়া যাবে? এই প্রশ্নের এখন কোনও উত্তর নেই। মাত্র আড়াই বছরের নোটিশে কোনও দেশই গেমস আয়োজন করার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
