
কলকাতা: দিল্লির পারিবারিক আদালত প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ানের প্রাক্তন স্ত্রী আয়েশা মুখার্জিকে অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি মীমাংসা থেকে প্রাপ্ত ৫.৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বার ও বেঞ্চ অনুয়াযী, আদালত জানিয়েছে, ওই মীমাংসা চুক্তিটি চাপ দিয়ে করানো হয়েছিল। পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার গর্গ সমস্ত মীমাংসা সংক্রান্ত নথি বাতিল ও অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিখর হুমকি চাপে পড়েই চুক্তিতে সই করেছিলেন।
আদালত আয়েশাকে নির্দেশ দিয়েছে, শিখরের মামলা দায়ের করার তারিখ থেকে ওই অর্থের উপর বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। বিচারক গর্গ রায়ে বলেছেন, দম্পতির বৈবাহিক বিবাদ নিষ্পত্তি করার অধিকার অস্ট্রেলিয়ার আদালতের ছিল না। দিল্লি আদালত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালতের দেওয়া নির্দেশ কার্যকর করা থেকেও আয়েশাকে বিরত রাখে। ওই নির্দেশে ধাওয়ানের ভারত-সহ বিশ্বজুড়ে সম্পত্তি ও আর্থিক সম্পদের ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার আদালত শিখরের মোট সম্পদের ১৫ শতাংশ আয়েশাকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি ৭.৪৬ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ নিজের কাছে রাখেন। শিখরের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৫.৯৫ কোটি টাকা ও একটি সম্পত্তির হস্তান্তর পান আয়েশা। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার আদালত একাধিক নির্দেশ জারি করে দম্পতির সম্পত্তি ভাগ করে দেয়। শিখর দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তগুলি ভারতীয় বিবাহ আইনের পরিপন্থী। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। শিখর পাতিয়ালা হাউস কোর্টকে জানান, ২০১২ সালে বিয়ের কিছুদিন পরই আয়েশা তাঁর সুনাম ও ক্রিকেট কেরিয়ার নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভুয়ো ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, নিজের অর্থে সম্পত্তি কিনলেও তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল সেগুলি যৌথ নামে বা সম্পূর্ণভাবে আয়েশার নামে নথিভুক্ত করতে।
একটি ক্ষেত্রে শিখর যে সম্পত্তি কিনেছিলেন, সেখানে আয়েশাকে ৯৯ শতাংশ মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। প্রমাণ বিবেচনার পর বিচারক গর্গ শিখরের পক্ষে রায় দেন। রায় দিয়েছেন, শিখর অস্ট্রেলিয়ার আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য নন।
২০২৩ সালে দিল্লির একটি আদালত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করে। ছেলে জোরাভরের থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার কারণে শিখর মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আয়েশা হয় এই অভিযোগগুলির বিরোধিতা করেননি, নয়তো যথাযথভাবে জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। শিখর স্থায়ী হেফাজত না পেলেও, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় সাক্ষাৎ করার অধিকার এবং ভিডিও কলে যোগাযোগের অনুমতি পান। পরে তিনি অভিযোগ করেন, ছেলের সঙ্গে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।